রাতে হঠাৎ চিৎকার করে জেগে উঠি। ঘাম ভেঙে যাচ্ছে। হার্ট পাউন্ড করছে। কিন্তু স্বপ্ন মনে নেই। শুধু আতঙ্ক রয়ে গেছে।
যেন ভয়ানক কিছু থেকে পালিয়ে এসেছি।
চোখ খোলা। কিন্তু এখনো স্বপ্নের ভিতরে আছি মনে হয়। ঘরটা অচেনা লাগে। আঁধারে ছায়া নড়ছে। বুঝতে পারি না কোথায় আছি।
এটা বাস্তব নাকি স্বপ্ন?
উঠে দাঁড়াতে চাই। কিন্তু পা কাঁপছে। হাত কাঁপছে। যেন কোনো অদৃশ্য ভয় আমাকে ধরে আছে। শরীর জেগেছে। কিন্তু মন এখনো স্বপ্নের জগতে।
এই অবস্থা কয়েক মিনিট থাকে। ধীরে ধীরে বুঝতে পারি—আমি বাড়িতে। নিরাপদ।
নাইট টেরর হয়েছে।
স্বপ্ন দেখা আর নাইট টেরর আলাদা। স্বপ্ন মনে থাকে। নাইট টেরর মনে থাকে না। শুধু আতঙ্ক থাকে। ব্যাখ্যাহীন ভয়।
যেন অজানা কিছুর আক্রমণ।
এই ঘটনার পর রাতের বাকি অংশ জেগে থাকি। ঘুমাতে ভয় লাগে। মনে হয় আবার সেই অভিজ্ঞতা হবে।
ভয়ের ভয় সবচেয়ে বড় ভয়।
ডাক্তার বলেছেন, “স্ট্রেস থেকে হয়।” কিন্তু কেন রাতে? কেন ঘুমের মধ্যে?
দিনে যে চাপ সামলাই, রাতে কি সেটা বিস্ফোরণ হয়?
নাইট টেরর হয় গভীর ঘুম থেকে। REM না। Non-REM। যখন স্বপ্ন দেখি না। অথচ আতঙ্ক তৈরি হয়।
স্বপ্ন ছাড়া কীভাবে ভয় আসে?
ছোটবেলায় এই সমস্যা ছিল। মা বলতেন, “রাতের ভূত।” এখন জানি এটা মানসিক অবস্থা। কিন্তু তখনো অনুভূতি একই।
অবচেতন ভয় কি কখনো যায় না?
নাইট টেরর হলে কখনো কখনো হাঁটি। কথা বলি। চোখ খোলা কিন্তু দেখি না। যেন জোম্বির মতো। পরদিন কিছু মনে থাকে না।
শরীর জেগে, মন ঘুমিয়ে থাকে।
স্ত্রী বলেছে আমি চিৎকার করে বলেছি, “ধরো না! ধরো না!” কিন্তু কে ধরছিল? কী থেকে পালাচ্ছিলাম?
অবচেতনে লুকানো কোন ভয়?
সবচেয়ে কষ্টকর হয় যখন পরিবারের সবাই জেগে যায়। আরাশ ভয় পায়। বাবার এই অবস্থা দেখে।
নিজের আতঙ্ক অন্যদের ভয় তৈরি করে।
নাইট টেরর এর পর দিনটা ভালো যায় না। মাথা ভার। মন অস্থির। যেন কিছু একটা ঘটেছে। কিন্তু কী জানি না।
অস্পষ্ট ট্রমার অনুভূতি।
কিছু রাত ভয়ে ঘুমাতে যাই না। জেগে থাকি। কফি খাই। টিভি দেখি। কিন্তু শেষে ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ি।
তখনই হয় নাইট টেরর।
হয়তো এড়িয়ে চলা সমাধান নয়। মুখোমুখি হওয়াই পথ। কিন্তু কীসের মুখোমুখি? যা দেখি না, বুঝি না।
অদৃশ্য শত্রুর সাথে যুদ্ধ।
মেডিটেশন করার চেষ্টা করি। মন শান্ত রাখার চেষ্টা। কিন্তু রাতে অবচেতনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি।
দিনে যোদ্ধা। রাতে নিরস্ত্র।
নাইট টেরর হয়তো আধুনিক জীবনের রোগ। আদিকালে মানুষের এত মানসিক চাপ ছিল না।
সভ্যতার মূল্য কি রাতের আতঙ্ক?
একটু ভাবনা রেখে যান