
ঈদের নামাজ শেষ। ভিড় চলে গেছে। কিন্তু ভেতরের প্রশ্নটা রয়ে গেছে।
৩০ দিন রোজা রাখল।
তারপর ঈদের রাতে সেই একই গিবত। সেই একই অহংকার। সেই একই মিথ্যা হাসি।
কোথায় গেল রমজান?
মানুষ নামাজ পড়ে — কিন্তু নামাজের পরেও মন একই থাকে।
মানুষ কোরআন তেলাওয়াত করে — কিন্তু অর্থ জানে না।
মানুষ “আলহামদুলিল্লাহ” বলে — কিন্তু কৃতজ্ঞতা কী জিনিস সেটা বোঝে না।
এটা কি ইসলাম?
এটা অভ্যাস। পারিবারিক ঐতিহ্য। সামাজিক চাপ।
ঈদের দিন দারুণ একটা অভিনয় দেখা যায় মসজিদে।
মানুষ কাঁধে কাঁধ মেলায়। কোলাকুলি করে। “ভাই ভাই” বলে।
বাইরে বের হওয়ার পর — সেই একই শত্রুতা। সেই একই হিংসা। সেই একই দূরত্ব।
ঈদের নামাজটা কী ছিল তাহলে?
একটা চমৎকার performance।
আল্লাহর জন্য না — মানুষের সামনে নিজেকে “ভালো মুসলিম” দেখানোর জন্য।
রমজান মাসে মানুষ শয়তান থেকে বাঁচার চেষ্টা করে।
কিন্তু শয়তান তো বাইরে না।
শয়তান ভেতরে — অহংকারের ভেতরে, লোভের ভেতরে, নিজেকে সবসময় সঠিক মনে করার ভেতরে।
সেই শয়তানকে কেউ চ্যালেঞ্জ করে না।
কারণ সেটা কঠিন।
নতুন জামা কেনা সহজ।
“Eid Mubarak” পাঠায় মানুষ হাজারজনকে।
কিন্তু বাড়ির পাশে যে একা থাকে — বৃদ্ধ, অসুস্থ, নিঃসঙ্গ — তার খোঁজ নেয় না।
WhatsApp-এ message পাঠিয়েছি, হয়ে গেছে।
মানুষ ঈদের দিন গরিবকে দেয়।
ক্যামেরা থাকলে বেশি দেয়।
ইসলাম বলে — বাম হাত যা দেয়, ডান হাত যেন না জানে।
মানুষ বলে — রিলস বানাও, views আসবে।
ফিতরা দেয়।
সারা বছর যে মানুষগুলো না খেয়ে থাকে — তাদের কথা মাথায় আসে না।
ঈদের একদিন দান করলে দায়িত্ব শেষ হয় না।
কিন্তু মানুষ মনে করে — শেষ হয়ে গেছে।
বুকের ভেতর হালকা লাগে। নিজেকে ভালো মনে হয়।
এই “ভালো লাগাটাই” সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
আল্লাহ বলেছেন — সৎ থাকো। ন্যায় করো। অহংকার ছেড়ে দাও।
ঈদ সেই সততার উদযাপন হওয়ার কথা ছিল।
হয়ে গেছে বিরিয়ানি, সেলফি আর নতুন জুতার উৎসব।
একটাই প্রশ্ন —
এই রমজানে মানুষ কি সত্যিই বদলেছে?
নাকি শুধু না খেয়ে থেকেছে?
উত্তরটা মানুষ নিজেই জানে।
কিন্তু স্বীকার করবে না।
কারণ স্বীকার করলে — পরিবর্তন করতে হবে।
আর পরিবর্তন — সবচেয়ে কঠিন কাজ।
নতুন জামার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।

একটু ভাবনা রেখে যান