চা কাপে চুমুক দিলাম। গরম চা জিভে লাগতেই চোখ বন্ধ হয়ে গেল এক সেকেন্ডের জন্য।
কিন্তু সেই এক সেকেন্ডে দেখলাম আমার পুরো জীবন।
আরাশ হাঁটি হাঁটি পা পা করে হাঁটছে। তারপর স্কুলে যাচ্ছে। তারপর কলেজ। তারপর চাকরি। তারপর বিয়ে। তারপর তার নিজের সন্তান।
হ্যাপির চুল পাকছে। কপালে বলিরেখা। তারপর আরো বেশি পাকা চুল। তারপর ছোট হয়ে যাওয়া পিঠ।
আমার নিজের হাত কাঁপছে। চশমা পরছি। বেত নিয়ে হাঁটছি।
সব কিছু দেখলাম এক সেকেন্ডে।
চোখ খুলে দেখি চা এখনো গরম। কাপ এখনো হাতে। হ্যাপি এখনো রান্নাঘরে। আরাশ এখনো তার বইয়ের পাতায়।
কিন্তু আমার মনে হচ্ছে বিশ বছর কেটে গেছে।
এই অভিজ্ঞতা প্রায়ই হয় আমার। কোনো একটা মুহূর্তে মনে হয় সময় খুব দ্রুত কাটছে। এক পলকে মাস, বছর চলে যাচ্ছে।
ট্রেনের জানালা দিয়ে তাকালে যেমন লাগে – গাছপালা, বাড়িঘর সব পিছনে দৌড়ে যাচ্ছে।
আমার জীবনও তেমন। আমি স্থির বসে আছি, কিন্তু সময় দৌড়ে যাচ্ছে।
অথচ যখন কষ্ট পাই, তখন এক মিনিটও কাটতে চায় না। একটা দুঃখের মুহূর্ত মনে হয় বছরের মতো লম্বা।
কিন্তু যখন স্বাভাবিক থাকি, তখন বছরগুলো সেকেন্ডের মতো চলে যায়।
এই কি জীবনের নিয়ম? কষ্ট লম্বা, সুখ ছোট?
নাকি আমার সমস্যা আরো গভীরে? হয়তো আমি সত্যিকারে বাঁচি না। তাই সময় আমার ওপর দিয়ে দ্রুত বয়ে যায়।
যারা প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করে, তাদের কাছে সময় থাকে। আর আমার মতো যারা শুধু কাটিয়ে দেয়, তাদের কাছে সময় দৌড়ে যায়।
আমি কি জীবন কাটিয়ে দিচ্ছি, নাকি জীবন যাপন করছি?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি না। কারণ জবাব দেওয়ার আগেই আরো কয়েক বছর কেটে যাবে এক সেকেন্ডে।
আল্লাহ, এই যে আমার সময়বোধ এত দ্রুত, এটা কি ইশারা যে আমার সময় কম?
নাকি এটা বার্তা যে আমি ভুল গতিতে বাঁচছি?
একটু ভাবনা রেখে যান