
একা একা
লকডাউন নতুন কিছু শেখায়নি। শুধু দেখিয়ে দিয়েছে যা সবসময় ছিল।
তৃতীয় দিন
জানালা খুললাম। রাস্তা ফাঁকা। একটা কুকুর। আর কেউ নেই।
চা বানালাম। কাপের শব্দ হলো।
অদ্ভুত লাগল। কারণ এটাই আজকের প্রথম শব্দ।
ঘড়ির হিসাব
দশটায় বই তুললাম। দুই পাতা। কিছু ঢুকল না।
বারোটায় ডিম সিদ্ধ করলাম। একা খেলাম। শুধু চিবানোর শব্দ।
আগে সবাই মিলে খেতাম। হাসতাম।
সেটা মনে হলো অনেক দূরের।
একটায় শুয়ে পড়লাম। ছাদে মাকড়সা জাল বানাচ্ছে। একা। ধৈর্য নিয়ে।
মাকড়সার কোনো সমস্যা নেই একা থাকতে।
আমার কেন?
সন্ধ্যার আকাশ
পাঁচটায় আকাশ লাল হলো। সুন্দর।
কিন্তু দেখার জন্য কেউ নেই।
তখন বুঝলাম — সুন্দর জিনিস একা দেখলে কষ্ট লাগে কেন।
কারণ সৌন্দর্য ভাগ করতে না পারলে মনে হয় সেটা পুরোপুরি ঘটেনি।
রাতের দেয়াল
আটটায় লাইট জ্বাললাম। ঘর ছোট লাগল। দেয়াল কাছে আসছে।
বারান্দায় গেলাম। কয়েকটা বাসায় আলো।
ওখানে কি মানুষ আছে? তারাও কি এরকম বসে?
সপ্তম দিন
জানালা খুলিনি। জানি বাইরে কী।
চা বানালাম। কাপের শব্দ আর অদ্ভুত লাগল না। পরিচিত হয়ে গেছে।
দশটায় বই তুলিনি। টিভি চালাইনি। শুধু বসে রইলাম।
কিছু না করাও একটা কাজ।
আয়না
সপ্তম দিনে আয়নায় তাকালাম।
তৃতীয় দিনে মনে হয়েছিল — এই লোক কে?
আজ পরিচিত লাগল।
সাত দিনে কিছু বদলায়নি। শুধু ভয়টা একটু কমেছে।
আসল কথা
একাকিত্ব ভয়ানক না।
ভয়ানক হলো এটা — তুমি সারাজীবন একা ছিলে। কিন্তু এটা টের না পাওয়ার জন্য সবসময় কাউকে না কাউকে কাছে রেখেছ।
অফিস। মানুষ। শব্দ। টিভি। ফোন।
লকডাউন সব সরিয়ে দিল। এবং দেখা গেল — নিচে শুধু তুমি।
একা।
সবসময়ই একা ছিলে।
পাখি
চতুর্থ দিনে পাখি উড়ে গেলে ভেবেছিলাম কোথায় যাচ্ছে।
সপ্তম দিনে পাখি উড়ে গেল। সেই প্রশ্ন আর এল না।
শুধু উড়ছে। এটুকুই।
হয়তো এটাই শেখার কথা ছিল।
শেষ রাত
বিছানায় শুলাম।
ভয় নেই। কাল একই হবে। কিন্তু একই হলেও চলবে।
আমরা জন্মাই একা। মরি একা।
মাঝখানে অনেক মানুষ আসে। কিন্তু ভেতরের জায়গাটায় কেউ ঢোকে না।
লকডাউন এই কথাটা বলেছে।
ভয়ানকভাবে। সরাসরি।
কানে কানে না। চিৎকার করে।

একটু ভাবনা রেখে যান