রশিদ ভাই দুবাইয়ে দাঁড়িয়ে হাসছেন। ফেসবুকে ছবি দিয়েছেন। ক্যাপশন লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ্! অফিস ট্রিপ।” আমি ছবিটা দেখে মনে মনে বলি, “আলহামদুলিল্লাহ্।” কিন্তু মুখে বলি, “শালা!”
এটা একটা বড় সমস্যা। মনে একটা বলি, মুখে আরেকটা। আমি কোনটা?
নাসির ভাইয়ের পোস্ট। সিঙ্গাপুরে বউ-বাচ্চা নিয়ে। ফ্যামিলি ভ্যাকেশন। ছেলে-মেয়ে দুইজনেই হাসছে। বউও হাসছে। নাসির ভাইও। সবার মুখে হাসি। আমার মুখে নেই।
স্ক্রোল করি। আরো ছবি। সুমন ভাই ব্যাংককে। রাকিব ভাই কুয়ালালামপুরে। সবাই কোথাও না কোথাও গেছে। আমি কোথাও যাইনি। যাব কিভাবে? টাকা কোথায়?
হ্যাপিকে জিজ্ঞেস করি, “তুমি কি বিদেশ যেতে চাও?” হ্যাপি বলে, “যাওয়ার পয়সা আছে?” আমি বলি, “নেই।” হ্যাপি বলে, “তাহলে চাওয়ার মানে কী?”
হ্যাপি ঠিক কথা বলে। কিন্তু মানুষ তো ইচ্ছা করতে পারে। ইচ্ছা করা তো আর টাকা লাগে না।
আরাশকে বলি, “তুমি কি বিমানে চড়তে চাও?” আরাশ বলে, “বিমান কী?” আমি বলি, “আকাশে ওড়ে।” আরাশ বলে, “পাখির মতো?” আমি বলি, “হ্যাঁ, পাখির মতো।” আরাশ বলে, “তাহলে চড়ব।”
আরাশের কথা শুনে মন খারাপ হয়। সে জানে না বিমানে চড়তে টাকা লাগে। জানে না তার বাবার কোনো টাকা নেই।
রাতে বিছানায় শুয়ে ভাবি। রশিদ ভাই কেন দুবাই গেলেন? আমি কেন গেলাম না? আমরা তো একই অফিসে কাজ করি। একই সময়ে জয়েন করেছি। তাহলে তিনি কেন এগিয়ে, আমি কেন পিছিয়ে?
হয়তো আমি কম কাজ করি। হয়তো আমি কম চালাক। হয়তো আমি কম ভালো। হয়তো অনেক কিছু।
কিন্তু একটা কথা জানি। আমি রশিদ ভাইয়ের মতো হতে পারব না। আমি আমিই থাকব। এটা ভালো নাকি খারাপ, জানি না। কিন্তু এটাই সত্যি।
ফেসবুক বন্ধ করে দেই। কিন্তু মনের ভিতর রশিদ ভাইয়ের হাসি ঘুরতে থাকে।
একটু ভাবনা রেখে যান