ব্লগ

ঘুমের বড়িতে বন্দি রাত

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

রাত দশটা। আমি ঘুমের বড়ি হাতে নিয়ে বসে আছি।

এই বড়ি না খেলে আমার ঘুম আসবে না। এটা আমি জানি।

কিন্তু এই বড়ি খাওয়া মানে মেনে নেওয়া যে আমি আর স্বাভাবিক নই।

আগে কত সহজে ঘুমাতাম। মাথা বালিশে দিলেই চোখ বন্ধ হয়ে যেত।

এখন? এখন রাত তিনটা পর্যন্ত ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকি। ভাবি আরাশের ভবিষ্যৎ। ভাবি টাকা-পয়সার হিসাব। ভাবি নিজের ব্যর্থতা।

ডাক্তার বলেছেন, “স্ট্রেস কমান। মেডিটেশন করেন।”

আমি মেডিটেশনের ভিডিও দেখেছি। কিন্তু পারি না। পাঁচ মিনিট বসতেই মনে আসে হাজারো চিন্তা।

আমি বড়িটা মুখে দিই। পানি দিয়ে গিলে ফেলি।

এখন আমি আধা ঘণ্টা পর ঘুমিয়ে পড়ব। কৃত্রিম ঘুম। ওষুধের ঘুম।

হ্যাপি জিজ্ঞেস করে, “বড়ি খেলে?”

“হ্যাঁ।”

“এই বড়ি ছাড়া আর ঘুম আসে না?”

“না।”

হ্যাপি চুপ হয়ে যায়। সেও জানে আমার অবস্থা।

আমি ভাবি, আমার বাবা কি ঘুমের বড়ি খেতেন? তাঁর কি অনিদ্রা ছিল?

আমি জানি না। তিনি এসব বলতেন না।

আমি ভাবি, আমি যদি এই বড়ি না খাই, কী হবে? সারারাত জেগে থাকব। পরদিন কাজে যেতে পারব না।

কিন্তু এই বড়ি খেলে আমি নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি। আমার শরীর ভুলে যাচ্ছে কীভাবে স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে হয়।

আমি ভাবি, কত মানুষ এই বড়ির উপর নির্ভর করে বাঁচে। আমিও তাদের একজন হয়ে গেলাম।

ঘুমের ওষুধ কাজ করতে শুরু করেছে। আমার চোখ ভারী হয়ে আসছে।

কৃত্রিম ঘুম। কিন্তু আমার কাছে এটাই একমাত্র উপায়।

আমি চোখ বন্ধ করি। আগামীকাল আবার এই একই রুটিন।

ঘুমের বড়ি। কৃত্রিম ঘুম। কৃত্রিম শান্তি।

এভাবেই বাকি জীবন?

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *