দুপুর ২টায় খাওয়ার পর চোখ জড়িয়ে আসে। একটা অদ্ভুত ঘুম ঘুম ভাব। অফিসে বসে থাকতেই পারি না। মনে হয় দু’মিনিট চোখ বন্ধ করলে ভালো হবে। শুধু দু’মিনিট।
বাসায় এসে হ্যাপিকে বলি, “একটু শুয়ে থাকি।” সে বলে, “বেশিক্ষণ ঘুমিও না। রাতে ঘুম আসবে না।” আমি বলি, “না না, শুধু আধঘণ্টা।” কিন্তু জানি এই আধঘণ্টা কখনো আধঘণ্টায় শেষ হয় না।
শুয়ে পড়ি। প্রথম দশ মিনিট মনে হয় ঘুম আসছে না। তারপর হঠাত করে গভীর ঘুমে তলিয়ে যাই। এমন গভীর ঘুম যে সময়ের হিসেব থাকে না।
আরাশ এসে ডাকে, “আব্বু, ৫টা বেজে গেছে।” চোখ খুলে দেখি সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়েছে। তিন ঘন্টা ঘুমিয়েছি। মাথা ভারী, মুখ শুকনো। এমন লাগে যেন কয়েক বছর ঘুমিয়েছি।
হ্যাপি বলে, “বলেছিলাম তো। এখন রাতে ঘুম আসবে না।” আমি বলি, “আসবে। রাত ১১টায় ঘুমিয়ে যাব।” কিন্তু ভিতরে জানি এই কথায় কোনো সত্যতা নেই।
সন্ধ্যার পর থেকেই বুঝতে পারি যে একটা অস্বস্তিকর রাত অপেক্ষা করছে। শরীর ক্লান্ত কিন্তু মন জাগ্রত। এমন এক অদ্ভুত অবস্থা যেখানে ঘুমাতে চাইলেও ঘুম আসে না।
রাত ১০টায় বিছানায় যাই। চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করি। কিন্তু মাথার ভিতর হাজারটা চিন্তা দৌড়ে বেড়াচ্ছে। কালকের কাজ, পরশুর মিটিং, আরাশের পড়ালেখা – সব কিছু একসাথে।
হ্যাপি পাশে শুয়ে নিয়মিত নিশ্বাস নিচ্ছে। আরাশও ঘুমিয়ে পড়েছে। পুরো বাড়ি নিরব। শুধু আমি একা জেগে আছি, সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে।
রাত ১২টা, ১টা, ২টা। চোখে ঘুম নেই। মনে পড়ে যায় দুপুরের সেই তিন ঘন্টার কথা। যদি না ঘুমাতাম, তাহলে এখন হয়তো গভীর ঘুমে আছতাম।
কেন আমি এই ভুল বারবার করি? প্রতিবার দুপুরে ঘুমানোর আগে জানি যে রাতে সমস্যা হবে। তবুও ঘুমিয়ে পড়ি। এটা কি অভ্যাস নাকি আসক্তি?
আল্লাহর কাছে প্রশ্ন করি, “কেন আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না? কেন একই ভুল বারবার করি?” মনে হয় উত্তর পাচ্ছি – “নিয়ন্ত্রণই জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।”
রাত ৩টায় অবশেষে একটু ঘুম আসে। কিন্তু সকালে দশটি অ্যালার্মেও উঠতে পারি না। দেরি করে অফিসে যাই। সারাদিন ক্লান্ত থাকি।
এই চক্র প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুইবার হয়। দুপুরের ঘুম, রাতের অনিদ্রা, সকালের অক্ষমতা। একটা ভাঙা রেকর্ডের মতো একই সুর বাজতে থাকে।
বন্ধুরা বলে, “দুপুরে ঘুমিও না।” কিন্তু সেই সময় মনে হয় অসম্ভব। চোখের পাতা এত ভারী যে খোলা রাখা যায় না।
হ্যাপি পরদিন বলে, “তুমি সারারাত ওপাশ-এপাশ করেছ।” আমি বলি, “ঘুম আসছিল না।” সে বলে, “তো দুপুরে ঘুমালে কেন?” এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছেও নেই।
হয়তো একদিন এই অভ্যাস ছাড়তে পারব। হয়তো একদিন দুপুরের সেই মধুর ঘুমকে প্রতিরোধ করতে পারব। কিন্তু আজকের মতো আবারও পরাজিত হলাম নিজের কাছেই।
রাত জেগে ভাবি, জীবনের কত রাত এমনভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দুপুরের আধঘণ্টার ঘুমের জন্য সারা রাতের শান্তি বিসর্জন দিচ্ছি। কিন্তু আগামীকাল দুপুরেও আবার সেই একই প্রলোভনে পড়ব।
একটু ভাবনা রেখে যান