বিছানায় শুয়ে আবিষ্কার করি যে আমার শরীর একটা জটিল যন্ত্র। কোন পজিশনে শুলে ঘুম আসবে – এই নিয়ে প্রতি রাতে একটা অদৃশ্য গবেষণা চলে। ডানপাশ, বামপাশ, চিৎ, উপুড় – প্রতিটি পজিশনের নিজস্ব সমস্যা আছে।
ডানপাশে শুলে বুকে চাপ লাগে। মনে হয় হার্ট ঠিকমতো কাজ করছে না। বামপাশে শুলে বাম হাতটা অবশ হয়ে যায়। চিৎ হয়ে শুলে নাক বন্ধ হয়ে যায়। উপুড় হয়ে শুলে ঘাড় ব্যথা করে।
রাত ১১টায় শুয়ে প্রথমে ডানপাশ ট্রাই করি। পাঁচ মিনিট পর মনে হয় এটা ঠিক না। বামপাশে যাই। এখানেও কিছুক্ষণ পর অস্বস্তি। চিৎ হয়ে শুই। সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি।
হ্যাপি পাশে গভীর ঘুমে আছে। সে কিভাবে এত সহজে ঘুমিয়ে পড়ে? কিভাবে একটা পজিশনেই সারারাত থাকতে পারে? আমার কি কোনো সমস্যা আছে?
উপুড় হয়ে শোয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু ঘাড় একদিকে ফিরিয়ে রাখতে হয়। ৫ মিনিট পর ঘাড় টান ধরে। আবার চিৎ হয়ে শুই।
বালিশ নিয়েও পরীক্ষা করি। এক বালিশ, দুই বালিশ, বালিশ ছাড়া। প্রতিটার আলাদা আলাদা অসুবিধা। বালিশ বেশি হলে ঘাড় উঁচু হয়ে যায়। কম হলে মাথা নিচু হয়ে যায়।
পা নিয়েও এক্সপেরিমেন্ট। সোজা রাখব নাকি ভাঁজ করব? একপা সোজা, একপা ভাঁজ? দুটোই ভাঁজ? কোনটাতেই স্থির থাকতে পারি না।
রাত ১২টা, ১টা, ২টা। আমি এখনো নিখুঁত পজিশনের খোঁজে আছি। এমন একটা পজিশন যেখানে কোনো অংশে চাপ নেই, কোনো অংশে ব্যথা নেই।
আল্লাহর কাছে প্রশ্ন করি, “অন্য মানুষেরা কিভাবে ঘুমায়? তাদের কি এত সমস্যা হয় না?” মনে হয় উত্তর আসছে – “তুমি খুব বেশি ভাব।”
সত্যিই হয়তো আমি বেশি ভাবি। হয়তো শরীরের প্রতিটি অনুভূতি নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন। একটু অস্বস্তি হলেই পজিশন পাল্টাই।
আরাশকে দেখি রাতে। সে যেভাবে শুয়েছে, সেভাবেই সকাল পর্যন্ত থাকে। কখনো নড়েও না। এগারো বছরের একটা ছেলের ঘুমের সহজতা দেখে ঈর্ষা হয়।
কখনো কখনো মনে হয় এটা বয়সের ব্যাপার। বাড়তি বয়সের সাথে সাথে হয়তো শরীর আরো জটিল হয়ে যায়। ছোটবেলায় এত সমস্যা ছিল না।
সকালে উঠে ঘাড়ে ব্যথা, কোমরে ব্যথা। মনে হয় সারারাত যুদ্ধ করেছি। হ্যাপি বলে, “তুমি সারারাত নড়াচড়া করেছ।” আমি বলি, “আরাম হচ্ছিল না।”
অনলাইনে সার্চ করি – “সবচেয়ে ভালো ঘুমের পজিশন কোনটি?” বিজ্ঞানীরা বলছেন বামপাশে শোয়া ভালো। কিন্তু বামপাশে শুলেই তো আমার হাত অবশ হয়ে যায়।
নতুন ম্যাট্রেস কেনার কথা ভাবি। হয়তো সমস্যা ম্যাট্রেসে। কিন্তু সেই টাকা কোথায়? আর নতুন ম্যাট্রেসেও যদি একই সমস্যা হয়?
রাতে আবার সেই একই গবেষণা। নিখুঁত পজিশনের সন্ধানে আমার এই অন্তহীন যাত্রা। কিন্তু হয়তো এর মধ্যেই একটা সৌন্দর্য আছে। হয়তো এই খোঁজাখুঁজিই জীবনের অংশ।
একটু ভাবনা রেখে যান