ব্লগ

কমেন্ট বক্সে হারানো মানবতা

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

একটা খবরের নিচে ৪৭৮টা কমেন্ট দেখে কৌতূহল হলো। ভাবলাম, মানুষ কী বলছে।

প্রথম কমেন্ট: “যারা এটা বিশ্বাস করে তারা বোকা।”

দ্বিতীয়: “আগের কমেন্টকারী নিজেই বোকা।”

তৃতীয়: “তোমরা দুজনেই সমস্যা।”

এবং এভাবে ৪৭৮টা কমেন্টে একটাও মানুষ খবরটা নিয়ে আলোচনা করেনি। সবাই একে অন্যকে গালি দিয়েছে।

আমি ভাবলাম, এরা কারা? এরা কি সত্যিকারের মানুষ?

স্ক্রল করতে করতে দেখি:

“মুসলমানদের দোষ।” “হিন্দুরা এজন্য দায়ী।” “আওয়ামী লীগের কারসাজি।” “বিএনপির ষড়যন্ত্র।”

একটা সিনেমার রিভিউর নিচে দেখি:

“যারা এই সিনেমা ভালো বলছে তাদের মস্তিষ্ক নেই।” “আগের কমেন্ট যে করেছে তার বাবা-মা বোকা।”

আমি ভাবছি, এই মানুষগুলো কি তাদের পরিবারের সাথেও এভাবে কথা বলে? তাদের সন্তানেরা কি জানে তাদের বাবা-মা অনলাইনে কেমন?

একটা cooking video র নিচে দেখি:

“এই রান্না ভুল।” “তুমি কী জান রান্নার?” “তোর মতো মানুষরা রান্নাঘর নষ্ট করে।”

রান্নার ভিডিও! সবচেয়ে নিরীহ একটা বিষয়। সেখানেও মানুষ যুদ্ধ করছে।

আমি নিজেও একবার কমেন্ট করার চেষ্টা করেছিলাম। একটা শিক্ষামূলক পোস্টে লিখেছিলাম: “ভালো লেগেছে, ধন্যবাদ।”

পরদিন দেখি, আমার কমেন্টের উত্তরে কেউ লিখেছে: “তোমার মতো চাটুকারদের কারণে দেশ এগিয়ে যায় না।”

আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, “ধন্যবাদ” বলাও অপরাধ?

আমি তারপর থেকে কমেন্ট করি না। শুধু পড়ি।

আর যত পড়ি, তত মনে হয় আমি একটা digital জঙ্গলে ঢুকে পড়েছি। যেখানে সবাই সবাইকে শত্রু মনে করে।

একদিন আরাশ জিজ্ঞেস করল, “বাবা, মানুষ কেন রাগারাগি করে?”

আমি তাকে কী উত্তর দেব? যে অনলাইনে মানুষ আলাদা হয়ে যায়? যে screen এর আড়ালে মানুষ তার humanity হারিয়ে ফেলে?

হ্যাপি বলল, “তুমি সারাক্ষণ ফোনে কী দেখ?”

“মানুষের মন্তব্য পড়ি,” বললাম।

“কেমন মন্তব্য?”

“খারাপ।”

“তাহলে কেন পড়?”

সত্যিই তো। কেন পড়ি?

হয়তো বুঝতে চাই মানুষ আসলে কেমন। হয়তো ভাবি এই রাগ, এই হিংসা, এই অসহিষ্ণুতা সবার ভিতর আছে। আমার ভিতরেও আছে।

কিন্তু আমি যখন রাস্তায় চলি, দোকানে যাই, মানুষের সাথে কথা বলি—তখন এই রূপ দেখি না।

তার মানে কি আমরা অনলাইনে আমাদের worst version হয়ে উঠি?

নাকি অনলাইনেই আমাদের real version প্রকাশ পায়?

আমি জানি না।

শুধু জানি, আমি সেই মানুষ হতে চাই না যে কমেন্ট বক্সে গালি দেয়।

আমি সেই মানুষ হতে চাই যে নীরবে পড়ে, বুঝে, শেখে।

এবং যদি কিছু বলতেই হয়, তাহলে সেটা হবে human হয়ে। beast হয়ে নয়।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *