গোসল করতে গিয়ে আয়নায় নিজেকে দেখি। পেটটা বেরিয়ে গেছে। দেখতে লাগে মধ্যবয়সী মানুষের মতো।
আমার মনে পড়ে যৌবনের কথা। সেই চ্যাপ্টা পেট। শক্ত মাংসপেশি। হ্যাপির প্রশংসার কথা।
এখন? এখন হ্যাপি আমার শরীরের দিকে তাকায়ও না।
আমি পেট টিপে দেখি। নরম। মেদ জমে গেছে।
আমি কখন এমন হলাম?
হয়তো ধীরে ধীরে। প্রতিদিন একটু একটু করে। আমি খেয়াল করিনি।
এখন যখন দেখছি, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।
আমি ভাবি, ব্যায়াম করলে কি পেট কমবে?
আমি পুশ-আপ দেওয়ার চেষ্টা করি। দশটাও পারি না। আগে পঞ্চাশটা দিতে পারতাম।
আমার হাঁপানি ধরে যায়।
আমি বুঝি, যৌবনের শরীর আর ফিরে পাব না।
আমার বয়সী অন্য পুরুষদের দিকে তাকাই। সবার পেট বেরিয়েছে। চুল পেকেছে। মুখে ভাঁজ পড়েছে।
এটাই কি স্বাভাবিক?
আমার মনে পড়ে বিশ বছর বয়সের কথা। কী শক্ত ছিলাম। কী সুন্দর ছিলাম। মেয়েরা তাকাত।
হ্যাপি আমাকে প্রথম দেখেছিল সেই রূপেই। এখন সে কী দেখে?
একটা মধ্যবয়সী পুরুষ। যার পেট বেরিয়েছে। যার চুল পাকছে।
আমি জিমে ভর্তি হওয়ার কথা ভাবি। কিন্তু জানি, সেখানে গিয়ে লজ্জা পাব। তরুণদের পাশে আমি দেখাব অথর্ব।
আমি ডায়েট করার কথা ভাবি। কিন্তু জানি, আমার ইচ্ছাশক্তি নেই।
এই পেট নিয়েই বাঁচতে হবে।
আমি কাপড় পরি। পেট ঢাকার জন্য ঢিলা শার্ট পরি।
আরাশ বলে, “বাবা, তুমি কেন এত বড় জামা পর?”
আমি বলি, “আরাম লাগে।”
মিথ্যা। আমি লুকানোর চেষ্টা করি।
কিন্তু নিজের কাছে লুকানো যায় না।
প্রতিদিন আয়নায় দেখি। প্রতিদিন আফসোস করি।
হারানো যৌবনের জন্য।
একটু ভাবনা রেখে যান