ব্লগ

মেঘের মধ্যে হারানো স্মৃতি

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

“Your Google Photos storage is full. Upgrade now or lose your memories.”

এই notification দেখে থমকে গেলাম। আমার স্মৃতি হারিয়ে যেতে পারে?

আমার সব ছবি Google এর cloud এ। আরাশের জন্মের প্রথম ছবি, হ্যাপির সাথে বিয়ের ছবি, মায়ের শেষ ছবি—সব।

কিন্তু এই ছবিগুলো কি আসলেই আমার?

ক্লিক করে দেখি, “15 GB storage used”। কখন এত ভর্তি হয়ে গেল? আমি তো খেয়াল করিনি।

আমার দাদাজানদের সময় ছবি থাকত album এ। হাতে ধরা যেত। দেখা যেত। কিন্তু আমার ছবিগুলো কোথায়? California এর কোনো server এ?

“Do you want to delete photos to free up space?”

কোন ছবি মুছব? আরাশের কোন হাসিটা? হ্যাপির কোন মুহূর্তটা? মায়ের কোন স্মৃতিটা?

প্রতিটা ছবিই গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। কিন্তু সবগুলো রাখার জায়গা নেই।

আমি ভাবলাম, এই যুগে স্মৃতিও limited। আগে যত ইচ্ছা মনে রাখা যেত। এখন subscription দিয়ে স্মৃতি কিনতে হয়।

মনে পড়ল, গত বছর Facebook এ একটা video দেখেছিলাম। “Your memories from 5 years ago.” কিন্তু সেই ছবি আমার phone এ নেই। Facebook এর কাছে আছে।

মানে আমার স্মৃতি অন্যের control এ।

আমার photo library scroll করতে লাগলাম। দেখি, automatic backup চালু আছে। মানে যা তুলছি, সব cloud এ যাচ্ছে।

কিন্তু আমি কি চাই সব মুহূর্ত preserve করতে? নাকি কিছু মুহূর্ত ভুলে যাওয়াই ভালো?

আমার ফোনে আরাশের ৩০০০+ ছবি। কিন্তু যখন তার childhood মনে করতে চাই, কোনো specific ছবি মনে আসে না। মনে আসে feelings।

তার মানে ছবি থাকলেই কি স্মৃতি বেঁচে থাকে?

হ্যাপিকে বললাম, “তোমার মা-বাবার কোনো ছবি digital ছিল না, তাও তুমি তাদের মনে রাখতে পার।”

সে বলল, “ছবি লাগে না। ভালোবাসা থাকলেই যথেষ্ট।”

কিন্তু আমি তো ছবির উপর depend করে গেছি। মনে হয় ছবি না থাকলে ভুলে যাব।

আমি premium storage কিনলাম। ৪০০ টাকা মাসে। যেন আমার স্মৃতির rent।

কিন্তু ভাবলাম, এই ছবিগুলো ১০ বছর পর থাকবে তো? Google বন্ধ হয়ে গেলে? আমি payment করতে ভুলে গেলে?

আমার মা’র কাছে যে album ছিল, সেটা ৪০ বছর পর আমি পেয়েছি। কিন্তু আমার digital photos আরাশ পাবে তো?

আমি এখন confused। Storage বাড়িয়েছি, কিন্তু নিশ্চয়তা কমেছে।

স্মৃতি এখন technology এর prisoner। আমরা মনে রাখি না, device গুলো আমাদের জন্য মনে রাখে।

আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, important ছবিগুলো print করাব। Physical album বানাব।

যেন আরাশ আমার মতো cloud storage এর উপর depend না করে।

স্মৃতি হাতে ধরার মতো হোক। Virtual নয়।

মেঘ কেটে গেলেও যেন থাকে।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *