সকালে উঠতে কষ্ট হয়। হাঁটুতে ব্যথা। পিঠে ব্যথা। চোখেও ঝাপসা লাগে। আয়নায় তাকিয়ে দেখি, চুলে পাক। মুখে বলিরেখা।
কখন যে বুড়ো হয়ে গেলাম!
এই ভয়টাই বয়সের সাথে স্বাস্থ্য হারানোর ভয়।
আমি দেখি, একটা বুড়ো মানুষ রাস্তায় ধীরে ধীরে হাঁটে। হাতে লাঠি। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট। কিন্তু হাঁটে। কেন? বাঁচার জন্য।
এই দৃশ্য আমাকে ভাবায়। আমিও কি একদিন এমন হব?
বয়স বাড়ার সাথে কী হয়?
শরীর দুর্বল হয়। যা আগে সহজে করতাম, এখন কষ্ট।
মনও দুর্বল হয়। ভুলে যাই। মনে রাখতে পারি না।
চোখ-কান কাজ করে না। দেখি না, শুনি না।
অসুখ বাড়ে। ডাক্তারের কাছে যেতে হয়।
কিন্তু সবচেয়ে বড় ভয়: অন্যের উপর নির্ভর হয়ে যাওয়া।
আমি ভাবি, যেদিন আরাশকে বলতে হবে, “বাবাকে টয়লেটে নিয়ে যাও,” সেদিন কেমন লাগবে? যেদিন হ্যাপিকে খাওয়াতে হবে, সেদিন কেমন অনুভব করব?
এই ভয় আমাকে রাতে জাগিয়ে রাখে।
কিন্তু আমি দেখেছি, অনেক বুড়ো মানুষ সুখে আছে। কেন? কারণ তারা বুঝেছে, বয়স শুধু সংখ্যা।
আসল কথা হলো, আমরা কীভাবে বুড়ো হই।
কিছু মানুষ বুড়ো হয় অভিমান করে। “আমি আর কিছু পারি না।”
আবার কিছু মানুষ বুড়ো হয় গ্রহণ করে। “এটাই জীবন।”
পার্থক্য মনে।
স্বাস্থ্য হারানোর ভয় কমানোর উপায়:
প্রথম: যতটুকু পারি, ততটুকু করা। হাল না ছাড়া।
দ্বিতীয়: নিয়মিত ব্যায়াম। শরীর চালু রাখা।
তৃতীয়: ভালো খাবার খাওয়া। শরীরের যত্ন নেওয়া।
চতুর্থ: মন ভালো রাখা। হাসি, আনন্দ।
পঞ্চম: আল্লাহর উপর ভরসা। তিনি যা ভালো, তাই করেন।
কিন্তু সবচেয়ে জরুরি: বয়সকে শত্রু না ভাবা।
বয়স একটা উপহার। কেন? কারণ বয়সের সাথে আসে অভিজ্ঞতা। আসে জ্ঞান। আসে শান্তি।
যুবকরা দৌড়ায়। বুড়োরা হাঁটে। কিন্তু হাঁটতে হাঁটতেও পৌঁছানো যায়।
আমি জানি, আমার শরীর একদিন দুর্বল হবে। কিন্তু আমার মন দুর্বল হবে না। আমার ভালোবাসা দুর্বল হবে না।
একদিন হয়তো আরাশকে সাহায্য চাইতে হবে। কিন্তু লজ্জা করব না। কেন? কারণ আমি তার জন্য সারাজীবন কাজ করেছি।
একদিন হয়তো হ্যাপির সেবা নিতে হবে। কিন্তু গর্ব করব। কেন? কারণ আমি তাকে ভালোবেসেছি।
স্বাস্থ্য হারানো ভয়ের কিছু নয়। ভয়ের হলো স্বাস্থ্য থাকতে জীবন উপভোগ না করা।
আজ আমার হাঁটু ব্যথা করে। কিন্তু আমি হাঁটি। কাল হয়তো আরো ব্যথা। কিন্তু তবুও হাঁটব।
কারণ হাঁটা বন্ধ করলে বাঁচা বন্ধ হয়ে যায়।
একটু ভাবনা রেখে যান