আমার নাম হায়দার। তার নাম হ্যাপি।
কিন্তু কেউ আমাদের নাম ধরে ডাকে না।
আমি “আরাশের বাবা।” সে “আরাশের মা।”
আমি “হ্যাপির স্বামী।” সে “হায়দারের বউ।”
আমরা দুজনে একসাথে থাকলে “দম্পতি।”
কিন্তু হায়দার কোথায়? হ্যাপি কোথায়?
সকালে উঠে আমি দেখি স্বামী নামের একটা মানুষ। রাতে ঘুমাতে যায় বাবা নামের একটা মানুষ।
হায়দার কোথাও নেই।
তার ইচ্ছা কী ছিল? তার স্বপ্ন কী ছিল? সে কী পছন্দ করত? কী অপছন্দ?
আমি জানি না।
আমি জানি স্বামী কী করে। বাবা কী করে।
কিন্তু হায়দার কী করত?
সংসারের শুরুতে আমাদের ব্যক্তিত্ব ছিল। আমি একজন মানুষ। সে একজন মানুষ।
এখন আমরা ভূমিকা। চরিত্র।
তার আর আমার নিজস্ব অস্তিত্ব নেই।
আমরা একটা প্রতিষ্ঠানের অংশ। পরিবার নামের প্রতিষ্ঠানের।
সেই প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা পালন করি।
কিন্তু নিজের দায়বদ্ধতা কী?
আমি কি আমার প্রতি বিশ্বস্ত?
নাকি আমি নিজেকে বিসর্জন দিয়েছি?
কখনো কখনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বলি, “হ্যালো হায়দার।”
অদ্ভুত লাগে। যেন একটা অচেনা নামে ডাকছি।
আমার পরিচয় এখন সম্পর্কের সংজ্ঞায়।
আমি কে—এটা নয়। আমি কার—এটা।
আমি অন্যের সম্পত্তি হয়ে গেছি।
তারও তাই।
আমরা পরস্পরের নাম হারিয়েছি।
এখন আমরা ফাংশন।
স্বামী ফাংশন। স্ত্রী ফাংশন।
প্রেম একটা বিশেষ্য ছিল।
এখন ক্রিয়াপদ।
আমরা প্রেম করি না। আমরা প্রেমিক নই।
আমরা প্রেম করার কাজ করি।
যেমন রান্না করি। যেমন কাজ করি।
এটা একটা দায়িত্ব।
কিন্তু দায়িত্বের মধ্যে আনন্দ থাকে?
আমি জানি না।
আমি শুধু জানি, হায়দার নামের মানুষটা এখন নেই।
তার জায়গায় একটা ভূমিকা আছে।
একদিন যদি সেই ভূমিকা শেষ হয়ে যায়?
তাহলে কী থাকবে?
আমি ফিরে আসব?
নাকি আমি চিরতরে হারিয়ে গেছি?
একটু ভাবনা রেখে যান