আমার টেবিলে একটা কাগজ আঁটানো। লেখা আছে: “Monthly Target: 15 Sales। Achieved: 11। Remaining: 4।”
সংখ্যাগুলো আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। ১৫, ১১, ৪। আমি আর আমি নেই। আমি হয়ে গেছি এই সংখ্যাগুলো।
আজ একটা কাস্টমার এসেছিল। বয়স্ক লোক। বলেছিল, “আমার দরকার নেই, কিন্তু আপনি এত কষ্ট করে বুঝাচ্ছেন।” আমি তাকে একটা প্রোডাক্ট বিক্রি করেছি যার দরকার তার ছিল না।
মাস শেষ হতে আর পাঁচ দিন। চারটা সেল করতে হবে। মানে চারজন মানুষকে এমন কিছু কিনতে বোঝাতে হবে যার দরকার তাদের নেই।
গত সপ্তাহে একটা মহিলা এসেছিল। সন্তান হয়েছে নতুন। ইনশিউরেন্স নিতে চায়। আমি তাকে দামি একটা প্ল্যান বিক্রি করেছি। জানি তার সামর্থ্য নেই। কিন্তু আমার টার্গেট পূরণ হয়েছে।
রাতে বাড়ি ফিরে আরাশকে দেখি। তার নিষ্পাপ মুখ। মনে হয়, আমি তার বাবা নই। আমি একটা সেলস মেশিন।
হ্যাপি জিজ্ঞেস করে, “আজ কেমন গেল?” আমি বলি, “ভালো। একটা সেল হয়েছে।” বলি না যে সেই সেলের জন্য একজন বুড়ো মানুষকে ঠকাতে হয়েছে।
কখন থেকে আমি এমন হয়ে গেলাম? কখন থেকে মানুষের দুর্বলতা দেখে সেটা কাজে লাগানো শিখলাম? কখন থেকে অন্যের ক্ষতি করে নিজের লাভ করতে পারি?
মনে পড়ে, আগে একটা ছোট ছেলে এসেছিল। বলেছিল, “আমি আমার মাকে সারপ্রাইজ দিতে চাই।” তার কাছে ছিল ৫০০ টাকা। আমি তাকে ৪৮০ টাকার একটা গিফট হ্যাম্পার বিক্রি করেছি। ভিতরে ছিল ২০০ টাকার জিনিস।
সেই ছেলেটার মুখ আমার মনে আছে। খুশিতে ঝকঝক করছিল। ভেবেছিল মাকে খুশি করতে পারবে। জানত না সে ঠকে গেছে।
আমার টার্গেট পূরণ হয়েছিল সেদিন।
আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। চাই এই জন্য যে, আমি টাকার লোভে মানবিকতা হারিয়ে ফেলেছি। চাই এই জন্য যে, অন্যদের ঠকিয়ে নিজের পেট ভরাচ্ছি।
কিন্তু কাল আবার অফিসে যেতে হবে। কাল আবার টার্গেটের কাগজটা দেখতে হবে। কাল আবার কাউকে না কাউকে ঠকাতে হবে।
এভাবে চলতে থাকলে একদিন আয়নায় নিজেকে চিনতে পারব না।
একটু ভাবনা রেখে যান