রাত দুইটা। পাশের বাড়ির রহিম চাচা দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায়। তার ছেলের জন্য অপেক্ষা। ছেলে কলেজে পড়ে। কিন্তু কলেজে যায় না। যায় অন্য কোথায়।
আমি জানালা দিয়ে দেখি। রহিম চাচার চোখে পানি।
এই দৃশ্য আমাকে ভাবায়। আমার আরাশ এখনো ছোট। কিন্তু একদিন বড় হবে। তখন?
সন্তানের বিপথগামিতা মানে কী? মানে বুঝতে পারা, আমার হাত থেকে আমার সন্তান চলে গেছে। আমি আর তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।
আমি দেখেছি, একটা মা কাঁদে। তার ছেলে নেশা করে। চুরি করে। কত দোয়া করেছে। কত কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু ছেলে ফেরেনি।
মা বলে, “কোথায় ভুল হয়েছে? কী করিনি?”
এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে কষ্টের।
অভিভাবকরা ভাবে, সন্তানের ভুল মানে তাদের ভুল। কিন্তু সবসময় কি তাই?
না। সন্তান একটা আলাদা মানুষ। তার নিজের ইচ্ছা আছে। নিজের পছন্দ আছে।
কিন্তু অভিভাবকদের অসহায়ত্ব কেন?
কারণ তারা ভেবেছিল, ভালোবাসা দিলে সন্তান ভালো থাকবে। শিক্ষা দিলে সন্তান মানুষ হবে। কিন্তু জীবন সবসময় সহজ নয়।
বাইরের পৃথিবী প্রভাব ফেলে। বন্ধুরা প্রভাব ফেলে। সমাজ প্রভাব ফেলে।
কখনো কখনো সেই প্রভাব অভিভাবকের চেয়ে শক্তিশালী।
বিপথগামী সন্তানের পিছনে কী কারণ?
খারাপ সঙ্গ। যারা ভুল পথ দেখায়।
পারিবারিক সমস্যা। বাবা-মায়ের ঝগড়া।
অর্থনৈতিক চাপ। টাকার অভাবে হতাশা।
সমাজের চাপ। মানিয়ে নিতে না পারা।
কিন্তু সবচেয়ে বড় কারণ: ভালোবাসার অভাব।
না, টাকার ভালোবাসা নয়। মনের ভালোবাসা।
অভিভাবকদের অসহায়ত্ব কেমন?
যেমন একটা মাছি কাঁচে ধাক্কা দেয়। কাঁচ দেখে না। কিন্তু বেরোতে পারে না।
তেমনি অভিভাবক দেখে সন্তান ভুল পথে। কিন্তু ঠেকাতে পারে না।
এই অসহায়ত্ব থেকে মুক্তির উপায়:
প্রথম: দোষারোপ বন্ধ করা। নিজেকে দোষ না দেওয়া।
দ্বিতীয়: ধৈর্য রাখা। রাতারাতি সব ঠিক হয় না।
তৃতীয়: দোয়া করা। আল্লাহর কাছে চাওয়া।
চতুর্থ: ভালোবাসা দেওয়া। রাগ নয়, ভালোবাসা।
পঞ্চম: আশা না ছাড়া। একদিন ফিরবে।
কিন্তু সবচেয়ে কঠিন: নিজেকে দোষ না দেওয়া।
আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটা সন্তানের মনে মা-বাবার জায়গা আছে। যতই ভুল করুক, একদিন সেই জায়গায় ফিরে আসবে।
কিন্তু সেই দিনটার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
আমি আরাশের দিকে তাকাই। ঘুমিয়ে আছে নিষ্পাপ। আমি দোয়া করি, “আল্লাহ, ওকে ভালো রেখো।”
কিন্তু জানি, শুধু দোয়া যথেষ্ট নয়। ভালোবাসা দিতে হবে। সময় দিতে হবে। বোঝাতে হবে।
সন্তানের বিপথগামিতায় অভিভাবকের অসহায়ত্ব স্বাভাবিক। কিন্তু সেই অসহায়ত্বে হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
কারণ অভিভাবকই সন্তানের শেষ আশ্রয়।
আর সেই আশ্রয় সবসময় খোলা রাখতে হয়।
একটু ভাবনা রেখে যান