আরাশের পুরনো জুতা ছিঁড়ে গেছে। আমরা দোকানে গেছি নতুন জুতা কিনতে।
আরাশ একটা সুন্দর স্পোর্টস শু দেখাল।
“বাবা, এইটা কেমন?”
আমি দোকানদারকে জিজ্ঞেস করি, “কত দাম?”
“তিন হাজার পাঁচশ।”
আমার মাথা ঘুরে যায়।
তিন হাজার পাঁচশ টাকা? একটা জুতার জন্য?
আমি হাসার চেষ্টা করি। “আর কিছু দেখান।”
দোকানদার আরেকটা জুতা আনল।
“এইটা?”
“দুই হাজার আটশ।”
এটাও আমার সাধ্যের বাইরে।
“আরো কম দামের কিছু আছে?”
দোকানদার একটু বিরক্ত হলেন। তিনি একটা সাধারণ জুতা আনলেন।
“এইটা বারোশ টাকা।”
বারোশ! সেটাও অনেক।
আরাশ সেই জুতা দেখে মুখ গুম করে ফেলল।
“এইটা তো সুন্দর না।”
আমি জানি। জুতাটা সত্যিই খারাপ দেখতে।
কিন্তু আমার কাছে বারোশ টাকাও নেই।
“আরাশ, এইটাই নে। ভালো জুতা।”
আরাশ কিছু বলল না। কিন্তু তার চোখে হতাশা।
আমরা দোকান থেকে বেরিয়ে এলাম।
আরাশ চুপচাপ হেঁটে যাচ্ছে।
আমি জানি সে কী ভাবছে। তার বন্ধুদের কাছে দামি জুতা, তার কাছে সস্তা জুতা।
আমার বুকে তীব্র ব্যথা।
আমি চাই আরাশ সবচেয়ে সুন্দর জুতা পরুক। কিন্তু পারি না।
“আরাশ, আগামী মাসে তোর জন্য ভালো জুতা কিনে দেব।”
আরাশ মাথা নাড়ল। “ঠিক আছে বাবা।”
কিন্তু আমি জানি আগামী মাসেও পারব না।
এই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আমাকে আরো কষ্ট দেয়।
একটু ভাবনা রেখে যান