ব্লগ

বালিশের নিচে হাতের আশ্রয়

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

বিছানায় শুয়ে প্রথমেই যেটা করি, সেটা হল একটা হাত বালিশের নিচে দিয়ে দেওয়া। এটা আমার ঘুমের একটা অত্যাবশ্যকীয় আচার। হাত ছাড়া বালিশ যেন অসম্পূর্ণ, বালিশ ছাড়া হাত যেন গৃহহীন।

ডান হাত নাকি বাম হাত – এটা নিয়েও একটা নিয়ম আছে। সাধারণত ডান হাত বালিশের নিচে দিই। বাম হাত পেটের উপর রাখি। কিন্তু কখনো কখনো বাম হাতও বালিশের নিচে যায়। দুটো হাতই একসাথে।

এই অভ্যাসটা কবে থেকে শুরু হয়েছে মনে নেই। হয়তো ছোটবেলা থেকেই। মায়ের কাছে ঘুমানোর সময় হয়তো এভাবেই হাত রাখতাম। একটা নিরাপত্তার অনুভূতি।

হ্যাপি একদিন বলেছিল, “তুমি কেন হাত বালিশের নিচে দাও?” আমি বলতে পারিনি। কারণটা জানি না। শুধু জানি এটা আরামদায়ক। এটা ছাড়া ঘুম আসে না।

অন্য কোথাও গেলে এই সমস্যা হয়। অন্যের বাড়িতে থাকলে, হোটেলে থাকলে। তাদের বালিশ আলাদা। হাত দেওয়ার জায়গা ঠিকমতো হয় না। সারারাত অস্বস্তি।

একবার অফিসের একটা ট্যুরে গিয়েছিলাম। হোটেলের বালিশ ছিল খুব মোটা। হাত দিলে খুব উঁচু হয়ে যাচ্ছিল। সারারাত ঠিকমতো ঘুম হয়নি।

আরাশকে দেখি সে এভাবে ঘুমায় না। দুই হাত শরীরের দুপাশে রেখে ঘুমায়। এটা কি বংশগত? নাকি একেকজনের একেক অভ্যাস?

বালিশের নিচে হাত দিয়ে ঘুমানোর একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। হয়তো রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। হয়তো ঘাড়ের সাপোর্ট বাড়ে। কিন্তু সঠিক উত্তর পাইনি।

ডাক্তার একবার বলেছিলেন, “এভাবে ঘুমালে হাত অবশ হয়ে যেতে পারে।” কিন্তু আমার তেমন সমস্যা হয়নি। মাঝে মাঝে সকালে হাত একটু জমে যায়, কিন্তু তেমন কিছু না।

রাতে ঘুমের মধ্যে যদি হাত বালিশের নিচ থেকে বের হয়ে যায়, তাহলে ঘুমের মধ্যেই আবার ঢুকিয়ে দিই। যেন শরীর নিজেই জানে কোথায় হাত রাখতে হয়।

আল্লাহর কাছে কখনো কখনো ভাবি, “এই যে আমার অদ্ভুত অভ্যাস, এটা কি স্বাভাবিক?” মনে হয় এটা আমার চরিত্রের একটা নিরীহ অংশ। কারো ক্ষতি হচ্ছে না।

হ্যাপি কখনো কখনো বলে, “তোমার হাত আমার দিকে এসে পড়ে।” সত্যি, ঘুমের মধ্যে হাতটা অনেক জায়গা নিয়ে নেয়। কিন্তু সেটা অনিচ্ছাকৃত।

বন্ধুদের সাথে এই নিয়ে আলোচনা করেছি। জামিউর বলেছে, “আমি চিৎ হয়ে ঘুমাই।” সাইফুল বলেছে, “আমি কাত হয়ে।” কিন্তু হাত কোথায় রাখে, সেটা নিয়ে কেউ এত চিন্তা করে না।

নতুন বালিশ কেনার সময় এই বিষয়টা মাথায় রাখতে হয়। খুব নরম হলে হাত ঢুকে যায় না। খুব শক্ত হলে হাত দিতে অস্বস্তি। মিডিয়াম সফট হতে হয়।

একবার হোটেলে থাকার সময় দুটো বালিশ নিয়ে একটাকে হাতের নিচে রেখেছিলাম। সেটাই সবচেয়ে আরামদায়ক হয়েছিল।

এই অভ্যাসটা যদি একদিন ছাড়তে হয়, তাহলে কেমন লাগবে? কিন্তু ছাড়ার দরকারই বা কী? যতদিন আরাম পাচ্ছি, ততদিন চালিয়ে যাব। এটা আমার ঘুমের একটা বিশেষত্ব।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *