ক্রেডিট কার্ডের বিল এসেছে। আমি খাম খুলতে ভয় পাচ্ছি।
গত মাসে আরাশের স্কুলের বেতন কার্ড দিয়ে পরিশোধ করেছি। হ্যাপির ওষুধ কিনেছি। আমার চেকআপের বিল দিয়েছি।
কত হতে পারে?
আমি আস্তে আস্তে খাম ছিঁড়ি।
পঞ্চাশ হাজার টাকা।
আমার হৃদস্পন্দন থেমে যায়।
পঞ্চাশ হাজার? আমার দু’মাসের বেতনের সমান?
আমি আবার দেখি। হয়তো ভুল দেখেছি।
পঞ্চাশ হাজার দুইশ টাকা।
আমার বুকে যন্ত্রণা শুরু হয়।
আমি বিস্তারিত হিসাব দেখি।
স্কুল ফি—বারো হাজার। মেডিকেল বিল—আট হাজার। গ্রোসারি—পাঁচ হাজার। ওষুধ—তিন হাজার। রেস্টুরেন্ট—দুই হাজার। মিসেলেনিয়াস—বিশ হাজার।
মিসেলেনিয়াস বিশ হাজার? কোথায় গেছে এই টাকা?
আমার হাত কাঁপছে।
আমি ক্যালকুলেটর বের করি। সুদ কত?
মিনিমাম পেমেন্ট পাঁচ হাজার। কিন্তু সুদ দেড় হাজার।
মানে আমি পাঁচ হাজার দিলে সাড়ে তিন হাজার মূল বিল কমবে।
এভাবে চলতে থাকলে কবে শেষ হবে?
আমি হিসাব করি। দুই বছর লাগবে।
দুই বছর!
আমি হ্যাপিকে ডাকি। “এই বিল দেখ।”
হ্যাপি দেখে বলে, “এত কোথায় খরচ হয়েছে?”
আমি জানি না।
ছোট ছোট খরচ মিলে বড় পাহাড় হয়ে গেছে।
রাতে ঘুমাতে পারি না। পঞ্চাশ হাজার টাকার চিন্তা।
ক্রেডিট কার্ড সুবিধা দেওয়ার জন্য নিয়েছিলাম।
এখন এটাই আমার সবচেয়ে বড় দুর্ভাবনা।
একটু ভাবনা রেখে যান