ব্লগ

হিরোর পতন

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আরাশ ছোট থাকতে আমি ছিলাম তার সুপারম্যান। আমি সব জানি, সব পারি, সব সমস্যার সমাধান করতে পারি।

“বাবা, চাঁদ কত দূরে?”

আমি একটা উত্তর দিতাম। আরাশ মুগ্ধ চোখে শুনত।

“বাবা, তুমি কি চাঁদে যেতে পার?”

“পারি।”

আরাশ বিশ্বাস করত।

এখন আরাশের এগারো বছর। আমার কাছ থেকে তার প্রত্যাশা কমেছে।

“বাবা, আমার ম্যাথের এই সমস্যাটা কর।”

আমি দেখি। অ্যালজেব্রার একটা কঠিন অঙ্ক।

আমি জানি না।

“আরাশ, আমি পরে করে দেব।”

আরাশ বুঝে যায় আমি পারি না।

তার চোখে হতাশা।

আরাশের বন্ধু রিহানের বাবা ইঞ্জিনিয়ার। রিহান বলে, “আমার বাবা সব ধরনের ম্যাথ পারে।”

আরাশ কিছু বলে না। কিন্তু আমি জানি সে তুলনা করে।

স্কুলে অভিভাবক দিবস। আমি গেছি পুরনো শার্ট পরে। অন্য বাবারা গেছেন স্যুট পরে।

আরাশ তার বন্ধুদের কাছে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেয় না।

আমি বুঝি, আমি আর তার গর্বের বিষয় নই।

বাড়িতে আরাশ আমার সাথে কম কথা বলে। বেশি কথা বলে তার বন্ধুদের সাথে ফোনে।

আমি তার হিরো হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে আমি একজন সাধারণ মানুষ। যার আয় কম, যার জ্ঞান সীমিত, যার পরিচিতি নেই।

আরাশের কাছে আমি আর বিশেষ কেউ নই।

এই উপলব্ধিটা আমার বুকে তীব্র ব্যথা দেয়।

আমি ভাবি, আমার বাবাও কি এমন অনুভব করেছিলেন? যখন আমি বড় হয়ে তাঁকে সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে দেখতে শুরু করেছিলাম?

হয়তো প্রতিটি বাবাই এই পথ দিয়ে যায়। প্রথমে সন্তানের কাছে সুপারম্যান, পরে সাধারণ মানুষ।

কিন্তু এটা মেনে নেওয়া কঠিন।

আমি চাই আরাশের কাছে আবার হিরো হতে। কিন্তু কীভাবে?

আমি কি ডাক্তার হব? ইঞ্জিনিয়ার হব? ব্যবসায়ী হব?

না, এটা সম্ভব নয়।

তাহলে আমি যেমন আছি, সেভাবেই আরাশের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

আমি আরাশকে বলি, “আরাশ, আমি তোর কাছে সুপারম্যান নই। আমি একজন সাধারণ মানুষ। কিন্তু তোর জন্য আমার ভালোবাসা অসাধারণ।”

আরাশ আমার দিকে তাকায়। তার চোখে কোমলতা।

হয়তো ভালোবাসাই যথেষ্ট হিরো হওয়ার জন্য।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *