ব্লগ

দোয়া কবুল না হলে ঈমানের সংকট

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

দুই বছর ধরে দোয়া করছি। প্রতিদিন। তাহাজ্জুদে উঠে। ফজরের পর। মাগরিবের পর। “হে আল্লাহ, আমাকে একটা ভালো চাকরি দিন।”

কিছুই হয়নি।

এখনো সেই একই চাকরি। একই বেতন। একই সমস্যা।

মনে প্রশ্ন জাগে, আল্লাহ কি আমার দোয়া শুনেন না?

কোরআনে পড়েছি, “উদুনি আস্তাজিব লাকুম।” আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেব। কিন্তু আমি তো ডাকছি। সাড়া কোথায়?

হ্যাপিকে বলেছি এই কথা। হ্যাপি বলেছে, “হয়তো আল্লাহর ইচ্ছা অন্য কিছু।”

“কিন্তু আমি তো ভালো কিছু চাইছি,” আমি বলেছি।

“আল্লাহ ভালো জানেন কোনটা তোমার জন্য ভালো।”

এই উত্তর শুনে আরো রাগ হয়। আমি কি জানি না কোনটা আমার জন্য ভালো? আমার চেয়ে কে ভালো জানে আমার দরকার?

কিন্তু তারপর নিজেকে শান্ত করি। হ্যাপি ঠিক কথা বলেছে।

তবু মনে সন্দেহ থেকে যায়।

গত মাসে জামিউর একটা ভালো চাকরি পেয়েছে। সে খুব খুশি। বলেছে, “ভাই, দোয়া করেছিলাম। আল্লাহ শুনেছেন।”

আমি মনে মনে ভাবি, তাহলে আমার দোয়া কেন শুনেন না?

জামিউর কি আমার চেয়ে ভালো মুসলিম? তার নামাজ কি আমার চেয়ে বেশি? তার ইমান কি আমার চেয়ে বেশি?

এসব প্রশ্ন মাথায় আসে। আর সাথে আসে হতাশা।

মাঝে মাঝে মনে হয়, দোয়া করে লাভ কী? যা হবার হবে। আল্লাহ তো আগে থেকেই সব ঠিক করে রেখেছেন।

কিন্তু তারপর মনে পড়ে, দোয়া করতে আল্লাহই বলেছেন। তাহলে এর কোনো না কোনো ফায়দা আছে।

ইমাম সাহেবের কাছে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, “আমার দোয়া কবুল হয় না।”

তিনি বলেছেন, “দোয়া তিনভাবে কবুল হয়। হয় এই দুনিয়ায় পাও। না হয় আখিরাতে পাবে। না হয় কোনো বিপদ থেকে রক্ষা পাবে।”

“কিন্তু আমি তো এই দুনিয়ায় চাইছি।”

“সবর করো। আল্লাহর সময় আছে।”

সবর। এই শব্দটা শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে গেছি। কত সবর করব?

রাতে বিছানায় শুয়ে ভাবি, হয়তো আমার দোয়া করার পদ্ধতি ভুল। হয়তো আমি ঠিকমতো দোয়া করতে পারি না।

কোরআনে দেখেছি দোয়ার আদব। আল্লাহর প্রশংসা করে শুরু করতে হয়। রাসুলের ওপর দরুদ পড়তে হয়। তারপর নিজের দরকার বলতে হয়।

আমি সব ঠিকমতো করি। তবুও কোনো লাভ নেই।

আরাশ একদিন বলেছিল, “বাবা, আল্লাহ কি সবার দোয়া শুনেন?”

আমি বলেছিলাম, “হ্যাঁ।”

“তাহলে আমার খেলনার জন্য দোয়া করলে কি দেবেন?”

আমি হেসে বলেছিলাম, “চেষ্টা করে দেখ।”

আরাশ দোয়া করেছিল। কিন্তু খেলনা পায়নি। তারপর বলেছিল, “বাবা, আল্লাহ আমার দোয়া শুনেনি।”

আমি কী উত্তর দেব? আমি নিজেই তো একই অবস্থায়।

বলেছিলাম, “হয়তো এখন না। পরে দেবেন।”

কিন্তু ভিতরে ভিতরে নিজেই সন্দেহ করি।

মাঝে মাঝে ভাবি, আমি কি আল্লাহর অস্তিত্বে সন্দেহ করছি? নাকি শুধু তার দোয়া কবুল করার ক্ষমতায় সন্দেহ?

এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য কী?

যদি আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ আছেন, তাহলে তার ক্ষমতায়ও বিশ্বাস করতে হবে। যদি তার ক্ষমতায় সন্দেহ করি, তাহলে তার অস্তিত্বেও সন্দেহ হয়।

এই চিন্তা আমাকে ভয় দেয়।

আমি কি কাফের হয়ে যাচ্ছি?

দ্রুত কালেমা পড়ি। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।”

কিন্তু মনের ভিতর প্রশ্ন থেকে যায়।

আল্লাহর কাছে আবার দোয়া করি। “হে আল্লাহ, আমার মনের এই সন্দেহ দূর করুন। আমাকে ক্ষমা করুন।”

এই দোয়াও কি কবুল হবে?

জানি না।

তবু দোয়া করি। কারণ দোয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *