কম্পিউটারের স্ক্রিনে ইমেইল ইনবক্স খুলে দেখলাম ২৩৪টা অপঠিত মেইল। প্রতিটাই একেকটা সমস্যা। প্রতিটাই সমাধানের অপেক্ষায়। কিন্তু আমি জানি এর একটাও আমি সমাধান করতে পারব না। তবুও প্রতিদিন নতুন সমস্যা এসে জমা হতে থাকে।
প্রথম মেইলটা আরাশের স্কুল থেকে। “ফি বকেয়া আছে।” আমি জানি। কিন্তু টাকা নেই। দ্বিতীয় মেইল বিদ্যুৎ অফিস থেকে। “বিল পরিশোধ করুন।” জানি। কিন্তু সামর্থ্য নেই।
তৃতীয় মেইল ব্যাংক থেকে। “লোনের কিস্তি দেন।” চতুর্থ মেইল বাড়িওয়ালার। “ভাড়া বাকি।” পঞ্চম মেইল ইনশিউরেন্স কোম্পানির। “প্রিমিয়াম জমা দিন।”
প্রতিটা মেইল খুললেই লেখা থাকে “জরুরি।” সবই জরুরি। কিন্তু আমার কাছে সমাধান নেই।
কিছু মেইল আছে এক বছরের পুরনো। “শেষ নোটিশ” লেখা। কিন্তু তারপরও মেইল আসতে থেকেছে। মনে হয় “শেষ নোটিশ”ও শেষ হয় না।
হ্যাপির ডাক্তারের মেইল আছে। “চেকআপের সময় হয়েছে।” জানি। কিন্তু ডাক্তারের ফি নেই।
আরাশের টিউটরের মেইল। “পড়ানো বন্ধ করব।” জানি। কিন্তু টাকা দিতে পারছি না।
আমার নিজের হাসপাতালের মেইল। “রিপোর্ট নিয়ে যান।” জানি রিপোর্ট খারাপ। কিন্তু চিকিৎসার টাকা নেই।
প্রতিদিন সকালে ইনবক্স খুলি। নতুন সমস্যা দেখি। পুরনো সমস্যাগুলো আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, “হে আল্লাহ, এই সমস্যাগুলোর সমাধান দাও।” কিন্তু প্রতিদিন নতুন মেইল আসে।
কখনো কখনো ভাবি সব মেইল ডিলিট করে দেব। কিন্তু সমস্যাগুলো তো আর ডিলিট হবে না।
কিছু মেইলের জবাব দিয়েছি। “একটু সময় চাই।” কিন্তু সেই সময়ও শেষ হয়ে গেছে।
কিছু মেইলে লেখা আছে “২৪ ঘন্টার মধ্যে জবাব দিন।” সেই ২৪ ঘন্টা ২৪ মাস হয়ে গেছে।
আমার ইনবক্স যেন আমার জীবনের প্রতিচ্ছবি। সব সমস্যা জমে আছে। কিছুই সমাধান হয় না।
হ্যাপি বলে, “তুমি সবসময় ফোনে কী দেখ?” আমি বলি, “মেইল।” কিন্তু বলি না যে সেগুলো সব দুঃস্বপ্ন।
আরাশ বলে, “আব্বু, আপনার ফোনে এত নোটিফিকেশন কেন?” আমি বলি, “কিছু না।” কিন্তু প্রতিটা নোটিফিকেশনই একটা যন্ত্রণা।
রাতে ঘুমানোর আগে ইনবক্স দেখি। ২৩৭টা হয়েছে। আরও তিনটা সমস্যা এসেছে।
কখনো কখনো মনে হয় এই মেইলগুলো নিজে নিজে সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু হয় না। বরং আরও জটিল হয়।
আগামীকাল আবার নতুন মেইল আসবে। আরও নতুন সমস্যা। আর আমার ইনবক্স আরও ভারী হবে।
এভাবে একদিন আমার পুরো জীবনটাই ইনবক্সে চাপা পড়ে যাবে। অসমাধানযোগ্য সমস্যার নিচে।
একটু ভাবনা রেখে যান