ব্লগ

ইনবক্সের ভূতের আড্ডাখানা

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

কম্পিউটার খুলি। ইমেইল চেক করি। Inbox (47)। সাতচল্লিশটা ইমেইল। সাতচল্লিশটা অসমাপ্ত কাজ।

প্রতিটা ইমেইল একটা ভূতের মতো। দেখি আর ভয় পাই। কোনটা করব আগে? কোনটা করব পরে? কোনটা একদমই করব না?

১৫ নম্বর ইমেইল। শাহিন সাহেবের। ১০ দিন আগের। লেখা: “Urgent। Tomorrow করে দিবেন।” Tomorrow ছিল ১০ দিন আগে।

২৩ নম্বর ইমেইল। রিতা ম্যাডামের। “Please follow up।” কিন্তু কার সাথে follow up করব, সেটা লেখা নেই।

৩১ নম্বর ইমেইল। নতুন প্রজেক্ট। Deadline ছিল গতকাল। আজও শুরু করিনি।

স্ক্রোল করি উপর থেকে নিচে। নিচ থেকে উপরে। প্রতিটা ইমেইল আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন বলছে, “কেন আমার উত্তর দাওনি?”

সকালে দেখি ৪৭টা। কাজ করি সারাদিন। সন্ধ্যায় দেখি ৫১টা। চারটা নতুন এসেছে। তিনটা পুরনো reply করেছি।

এভাবে চলতে থাকলে কখনো শূন্য হবে না।

মনে হয় আমি একটা দৌড়ে অংশ নিয়েছি। কিন্তু যত দৌড়াই, ফিনিশিং লাইন আরো দূরে সরে যায়।

রাতে বাড়ি ফিরে হ্যাপিকে বলি, “আজ অনেক কাজ করেছি।” হ্যাপি বলে, “তাহলে কাজ শেষ হয়েছে?” আমি বলি, “না, আরো বেড়েছে।” হ্যাপি বুঝে না। আমিও বুঝি না।

কখনো কখনো ভাবি, সব ইমেইল delete করে দিই। কিন্তু সাহস হয় না। মনে হয় হয়তো কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকতে পারে।

অথচ জানি, এই ৪৭টার মধ্যে হয়তো ৫টা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। বাকি ৪২টা শুধু time pass।

আরাশ একদিন দেখেছিল আমার কম্পিউটার। বলেছিল, “বাবা, এত numbers কেন?” আমি বলেছিলাম, “এগুলো কাজ।” আরাশ বলেছিল, “এত কাজ কেন?”

আমার উত্তর ছিল না।

ইমেইল একটা আবিষ্কার ছিল কাজ সহজ করার জন্য। কিন্তু এটা আমার জীবন কঠিন করে দিয়েছে।

আগে চিঠি আসত। একটা করে। সপ্তাহে হয়তো দুইটা। উত্তর দিতাম একটা একটা করে। এখন দিনে দশটা ইমেইল আসে। উত্তর দেওয়ার আগেই আরো দশটা আসে।

আল্লাহর কাছে দোয়া করি, এই ইমেইলের জট যেন একদিন খুলে যায়। যেন এমন দিন আসে যখন Inbox (0) দেখতে পাব।

কিন্তু জানি, সেই দিন কখনো আসবে না।

ইনবক্স আমার কবরখানা। আর আমি সেই কবরখানার কবরস্থ।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *