আমার শার্টের কলার ছিঁড়ে গেছে। কাফ দুটোও। কিন্তু আমি নতুন শার্ট কিনব না।
কারণ আরাশের স্কুলে নতুন বছরের বই আসছে।
দোকানে গিয়ে দেখি একটা সুন্দর নীল শার্ট। দাম ছয়শ টাকা। আমার খুব পছন্দ।
কিন্তু আমার পকেটে হিসাব। আরাশের বইগুলোর দাম হবে এক হাজার টাকা।
আমি শার্ট না কিনে চলে আসি।
বাড়িতে হ্যাপি বলে, “তোমার একটা ভালো শার্ট দরকার। অফিসে যাও কীভাবে?”
“এইটাই চলবে।”
“কিন্তু এইটা তো ছিঁড়ে গেছে।”
“একটু সেলাই করে নেব।”
হ্যাপি আর কিছু বলে না। সে জানে আমাদের অবস্থা।
আমার জুতা দুটোও অনেক পুরনো। তলা ছিঁড়ে গেছে। বৃষ্টিতে পানি ঢোকে।
কিন্তু আরাশের নতুন জুতা কিনতে হবে। তার পুরনো জুতা ছোট হয়ে গেছে।
আমি আমার জুতায় একটু আঠা লাগিয়ে চালিয়ে দেই।
আরাশ জিজ্ঞেস করে, “বাবা, তোমার নতুন জামা কিনবে না?”
“দরকার নেই। পুরনোটা ভালো আছে।”
আরাশ বোঝে আমি মিথ্যা বলছি।
“বাবা, আমার জন্য তুমি নিজের কিছু কিনো না?”
আমার গলা শুকিয়ে যায়।
“না, এমন কিছু না।”
কিন্তু আরাশ জানে।
আমার মনে পড়ে আমার বাবার কথা। তিনিও এমনি করতেন। আমার জন্য সব কিনতেন। নিজের জন্য কিছু কিনতেন না।
তখন আমি বুঝতাম না। এখন বুঝি।
বাবা হওয়া মানে নিজেকে দ্বিতীয় স্থানে রাখা।
আমার চাহিদা, আমার স্বপ্ন, আমার পছন্দ—সব কিছু আরাশের পরে।
কিন্তু এটা কোনো কষ্ট নয়। এটা ভালোবাসা।
আরাশের খুশি দেখলে আমার নতুন শার্টের অভাব লাগে না।
তার পড়াশোনার জন্য আমার জুতার তলা ছেঁড়া থাকলেও সমস্যা নেই।
এই ত্যাগ আমি স্বেচ্ছায় করি।
কারণ আরাশ আমার স্বপ্ন। তার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আমার বর্তমানের কিছু অভাব মেনে নিতে পারি।
আরাশ একদিন বুঝবে তার বাবা কতটা ভালোবেসেছে।
একটু ভাবনা রেখে যান