ব্লগ

যে আদালতে সবাই দোষী কিন্তু কেউ অভিযুক্ত নয়

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

হ্যাপির সাথে কথা বলতে বলতে হঠাৎ মনে হলো আমরা সবাই একটা অদৃশ্য আদালতে দাঁড়িয়ে আছি। যেখানে সবাই দোষী কিন্তু কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। সবাই জানে অপরাধ করেছে, কিন্তু কেউ বলে না কী অপরাধ।

আমি দোষী কারণ আমি ভালো স্বামী হতে পারিনি। হ্যাপিকে সুখী রাখতে পারিনি। কিন্তু কেউ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে না।

হ্যাপি দোষী কারণ সে স্বপ্ন দেখেছিল আরও ভালো জীবনের। কিন্তু সেই স্বপ্নের জন্য কেউ তাকে দোষ দেয় না।

আরাশ দোষী কারণ সে বাবার কাছ থেকে যা পাওয়ার কথা, তা চায়। কিন্তু সেই চাওয়ার জন্য কেউ তাকে দোষ দেয় না।

আমার বস্‌ দোষী কারণ সে আমাকে ছাঁটাই করেছে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের জন্য কোনো অভিযোগ নেই তার বিরুদ্ধে।

আমার প্রতিবেশী দোষী কারণ আমার দুর্দশায় সাহায্য করেনি। কিন্তু সাহায্য না করার জন্য কোনো মামলা নেই।

এই আদালতে বিচারক কে? কেউ জানে না। কিন্তু সবাই অনুভব করে একজন অদৃশ্য বিচারক আছেন যিনি সবাইকে দেখছেন।

এই আদালতে আইনজীবী নেই। কারণ কেউ নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে না। সবাই জানে কোনো না কোনো অপরাধ আছে।

এই আদালতে সাক্ষীও নেই। কারণ সবাই একে অন্যের অপরাধ দেখেছে, কিন্তু কেউ সাক্ষ্য দেয় না।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, “হে আল্লাহ, এই আদালতে আমার অপরাধ কী?” কিন্তু কোনো জবাব আসে না। যেন আল্লাহও এই আদালতের নিয়ম মানেন।

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই আদালতে কোনো সাজা দেওয়া হয় না। কিন্তু সবাই নিজেকে শাস্তি দেয়। আমি নিজেকে অপরাধবোধে ভোগাই।

হ্যাপি নিজেকে হতাশায় ভোগায়। আরাশ নিজেকে বঞ্চনায় রাখে। সবাই নিজ নিজ শাস্তি ভোগ করে।

এই আদালতে কোনো আপিল করা যায় না। কারণ কোনো রায় নেই যার বিরুদ্ধে আপিল করা যায়।

এই আদালতে কোনো জামিন নেই। একবার ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না।

অফিসের সবাই এই আদালতে আছে। সবাই জানে নিজেদের অপরাধ, কিন্তু কেউ কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করে না।

রিকশাওয়ালা দোষী কারণ বেশি ভাড়া নেয়। কিন্তু যাত্রীরা অভিযোগ করে না।

দোকানদার দোষী কারণ ওজনে কম দেয়। কিন্তু ক্রেতারা মেনে নেয়।

আমাদের এই নীরব আদালত সারাদিন চলে। সবাই নিজ নিজ দোষ নিয়ে হেঁটে বেড়ায়।

এই আদালতের সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো, এখানে কোনো ক্ষমা নেই। কারণ কেউ ক্ষমা চায় না।

আমরা সবাই নিজেদের অপরাধী মনে করি, কিন্তু কেউ ক্ষমা চাই না। কারণ জানি না কার কাছে চাইতে হবে।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই আদালতের কথা ভাবি। আগামীকাল আবার সেই একই আদালতে হাজির হতে হবে।

সেই একই দোষবোধ নিয়ে। সেই একই নীরব অভিযোগ নিয়ে।

আর এভাবেই চলবে আমাদের এই অদৃশ্য আদালতের বিচার।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *