ব্লগ

যে কথা মুখে আনা যায় না

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আরাশের গলার স্বর ভেঙে গেছে। মুখে দাড়ি গজিয়েছে। সে আর আমার ছোট্ট ছেলে নেই।

আজ সে আমাকে প্রশ্ন করল, “বাবা, ছেলেমেয়ের শরীরে কি পার্থক্য আছে?”

আমার মুখ শুকিয়ে গেল।

আমি জানি এই কথা বলতে হবে। কিন্তু কীভাবে?

আমার বাবা আমাকে কখনো এসব বলেননি। আমি নিজেই জেনেছি। বন্ধুদের কাছ থেকে, বইপত্র থেকে।

অনেক ভুল তথ্য পেয়েছি। অনেক ভুল ধারণা করেছি।

আমি চাই না আরাশ সেই পথে যাক।

“আরাশ, ছেলেমেয়েদের শরীর আলাদা।”

“কেন?”

আমি গলা খাঁকারি দিই।

“প্রকৃতির নিয়ম।”

আরাশ আরো জানতে চায়। কিন্তু আমি লজ্জায় কথা বলতে পারি না।

আমার এক বন্ধু আছে, ডাক্তার। সে বলেছিল, “বাচ্চাদের সাথে এইসব বিষয়ে খোলামেলা কথা বলতে হয়। নইলে তারা ভুল জায়গা থেকে ভুল তথ্য নেবে।”

কিন্তু আমি পারি না।

আমাদের সমাজে এইসব বিষয় লজ্জার। এইসব নিয়ে কথা বলা মানে অশালীনতা।

কিন্তু আরাশ বড় হচ্ছে। তার জানার অধিকার আছে।

আমি ইন্টারনেটে খোঁজ করি। কীভাবে বাচ্চাদের যৌন শিক্ষা দিতে হয়।

পড়ে দেখি, এটা খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়। কিন্তু আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগে।

আমি হ্যাপিকে বলি, “তুমি আরাশকে এইসব বোঝাও।”

“কেন? তুমি তার বাবা।”

“কিন্তু আমি লজ্জা পাই।”

হ্যাপি হাসে। “তুমি লেখক। কত কিছু লেখ। আর এই কটা কথা বলতে পার না?”

আমি ভাবি, আমি কবিতায় প্রেমের কথা লিখি। কিন্তু আমার ছেলেকে শরীরের কথা বলতে পারি না।

এই দ্বিচারিতা কেন?

আমি আরাশকে ডাকি।

“আরাশ, তোর শরীরে যে পরিবর্তন হচ্ছে, এইটা খুবই স্বাভাবিক।”

“কী পরিবর্তন?”

আমি গলা শুকিয়ে যায়।

“তুই বড় হচ্ছিস। পুরুষ হচ্ছিস।”

তারপর আমি যতটুকু পারি, ততটুকু বোঝাই। অনেক আটকে আটকে।

আরাশ মনোযোগ দিয়ে শোনে।

“বাবা, এইসব নিয়ে লজ্জা কেন?”

আমার কোনো উত্তর নেই।

সেদিন আমি বুঝি, আমাদের প্রজন্মের লজ্জা আরাশের প্রজন্মে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

সে যা জানার, তা স্বাভাবিকভাবে জানা উচিত।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *