অফিসের মিটিংয়ে তর্ক শুরু হয়েছে। কোন মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি ভালো? রহিম একটা দিক বলছে। আমি অন্য দিক। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে বুঝলাম—আমি সত্য খুঁজছি না, জিততে চাইছি।
বিতর্কে জেতার নেশা সত্যকে অন্ধ করে দেয়।
রহিমের একটা পয়েন্ট ভালো ছিল। কিন্তু স্বীকার করিনি। কারণ তাহলে আমি হেরে যাব। তার বদলে নতুন যুক্তি দিলাম। এমনকি নিজেও পুরো বিশ্বাস করি না এমন যুক্তি।
জেতাই লক্ষ্য হয়ে গেলে সত্য গৌণ হয়ে যায়।
রাজনৈতিক বিতর্ক দেখি। কেউ কেউকে স্বীকার করে না। প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়, উত্তরে অন্য কথা বলে। কারণ তারা সত্য খুঁজছে না। জনমত জিততে চাইছে।
বাড়িতে স্ত্রীর সাথে তর্ক। আমি বলি রাজনীতি নিয়ে। সে বলে অর্থনীতি নিয়ে। কিন্তু আমরা একে অপরের কথা শুনছি না। নিজের কথা বোঝাতে চাইছি।
শেষে কেউ কারও মত বদলায় না। সবাই নিজের অবস্থানেই থাকি।
এটা কি তর্ক নাকি দুটো একক ভাষণ?
আসল সমস্যা—আমরা তর্কে নামি মত বদলানোর জন্য না। নামি মত প্রতিষ্ঠার জন্য।
আরাশের সাথে কথা বলি। সে বলে, “পড়াশোনার চেয়ে খেলা গুরুত্বপূর্ণ।” আমি বলি, “পড়াশোনা বেশি জরুরি।” কিন্তু তার যুক্তিগুলো শুনলাম? নাকি শুধু প্রতিবাদ করলাম?
প্রজন্মের তর্কে সত্য আছে না ইগো?
সত্য খোঁজার তর্ক ভিন্ন। সেখানে প্রশ্ন থাকে—”আমি কি ভুল হতে পারি?” জেতার তর্কে প্রশ্ন—”আমি কীভাবে জিতব?”
সক্রেটিস প্রশ্ন করতেন জানার জন্য। আমরা প্রশ্ন করি ফাঁদে ফেলার জন্য।
সবচেয়ে ভয়ানক যখন আমি মনে মনে জানি আমি ভুল। কিন্তু স্বীকার করি না। কারণ সামাজিক মর্যাদার ভয়।
একবার বন্ধুদের সামনে ভুল তথ্য দিয়েছিলাম। পরে জানলাম ভুল। কিন্তু শুধরে দিইনি। কারণ তাহলে “বেকুব” মনে করবে।
মিথ্যা জ্ঞান আঁকড়ে ধরে রাখা কি সত্য জ্ঞান খোঁজার চেয়ে সহজ?
ইন্টারনেটের যুগে সবাই “গুগল বিশেষজ্ঞ।” তিন মিনিট সার্চ করে বিশাল বিশাল তর্ক। কিন্তু গভীর বোঝার চেষ্টা নেই।
আমিও করি। হোয়াটসঅ্যাপে আর্টিকেল পাঠাই। পুরো পড়িনি। শিরোনাম দেখে পাঠালাম। কারণ আমার অবস্থান সাপোর্ট করে।
আমরা কি তথ্য খুঁজি নাকি সমর্থন খুঁজি?
সত্যিকারের তর্কে মত বদলানোর সুযোগ থাকে। জেতার তর্কে মত বদলানো “হার মানা।”
কিন্তু মত বদলানো কি হেরে যাওয়া নাকি শিখে যাওয়া?
হয়তো সবচেয়ে বড় জয় সেটাই—যখন ভুল স্বীকার করে সত্যের কাছে মাথা নত করি।
কিন্তু সেই সাহস কজনের আছে?
বিতর্কে জেতার চেয়ে সত্য খোঁজা কঠিন। কারণ সত্য খুঁজতে হলে নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়।
জেতার জন্য অন্যকে প্রশ্ন করলেই হয়।
একটু ভাবনা রেখে যান