ঘুমের ঠিক আগে একটা ঝাঁকুনি। যেন কেউ আমাকে হঠাত ধাক্কা দিয়ে দিল। বা উঁচু কোথাও থেকে পড়ে যাচ্ছি। পুরো শরীর একসাথে কেঁপে ওঠে। চোখ খুলে যায়। হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।
এই ঝাঁকুনিটা সবসময় একই সময়ে আসে। যখন আমি ঘুমের রাজ্যের দরজায় পৌঁছাই। যখন চেতনা আর অচেতনের মধ্যবর্তী সেই অদ্ভুত জগতে থাকি। ঠিক সেই মুহূর্তে।
হ্যাপি জিজ্ঞেস করেছে, “তুমি হঠাত কেঁপে উঠলে কেন?” আমি বলেছি, “জানি না। আপনা আপনি হয়ে যায়।” কিন্তু এই “আপনা আপনি” র পেছনে কী আছে?
কখনো কখনো স্বপ্নে দেখি আমি সিঁড়ি থেকে পড়ে যাচ্ছি। বা গাড়ি থেকে পড়ে যাচ্ছি। সেই পড়ার অনুভূতির সাথে সাথেই ঝাঁকুনি। যেন আমার মস্তিষ্ক আর শরীর একসাথে বিপদ সংকেত দিচ্ছে।
ছোটবেলায় ভাবতাম এটা ভূতের কাণ্ড। কেউ আমাকে ঝাঁকুনি দিচ্ছে। এখন জানি এটা শরীরের একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু তবুও রহস্যময় লাগে।
আরাশকে একদিন জিজ্ঞেস করেছি, “তোর ঘুমের সময় ঝাঁকুনি লাগে?” সে বলেছে, “কখনো কখনো।” মানে সবারই হয়। কিন্তু কেন হয়?
অনলাইনে পড়েছি এর নাম হিপনিক জার্ক। ঘুমের শুরুতে মাংসপেশির অনিচ্ছাকৃত সংকোচন। কিন্তু এই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা শুনেও রহস্য কমে না।
কেন আমাদের শরীর ঘুমের আগে এই খেলা খেলে? কেন শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়তে দেয় না? যেন শরীর বলছে, “এখনো জেগে থাক। ঘুমানোর সময় হয়নি।”
কখনো কখনো এই ঝাঁকুনি এত জোরে হয় যে পুরো ঘুম উড়ে যায়। তারপর আবার ঘুমানোর চেষ্টা। আবার সেই একই প্রক্রিয়া। ঝাঁকুনি, জেগে ওঠা।
আল্লাহর কাছে প্রশ্ন করি, “এই ঝাঁকুনি কেন দাও? ঘুমটা শান্তিতে হতে পারে না?” মনে হয় উত্তর আসছে – “এটাও তোমার শরীরের একটা বৈশিষ্ট্য।”
হ্যাপি বলে, “তুমি খুব টেনশন করো বলে এমন হয়।” হয়তো সত্যি। দিনের সব চিন্তা, সব চাপ হয়তো এভাবে বের হয়।
অফিসে চাপের দিনগুলোতে এই ঝাঁকুনি বেশি হয়। শান্ত দিনে কম। মানে মানসিক অবস্থার সাথে সম্পর্ক আছে।
একবার ঠিক করেছিলাম এই ঝাঁকুনি আসার আগেই ঘুমিয়ে পড়ব। কিন্তু সেটা কি সম্ভব? কেউ কি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কখন ঘুম আসবে?
কখনো কখনো মনে হয় এই ঝাঁকুনিটা আমার শরীরের একটা অভ্যাস। দিনের শেষে একটা রিস্টার্ট বাটন চাপা। পুরানো দিনকে ঝেড়ে ফেলে নতুন রাতে প্রবেশ।
হয়তো এটাই আমার শরীরের ভাষা। “আজকের দিন শেষ। এবার বিশ্রাম নাও।” এই ঝাঁকুনিটা একটা সংকেত। একটা বিদায়ের ইশারা।
একটু ভাবনা রেখে যান