
গল্প
তুমি “আমি” বলো। কিন্তু “আমি” বলে কেউ নেই। শুধু একটা গল্প আছে। যেটা তুমি নিজেকে প্রতিদিন বলছ।
ইন্টারভিউ
তিনজন বসে। তাকিয়ে আছে।
বলল — নিজের সম্পর্কে বলুন।
মুখ খুললাম। বন্ধ করলাম।
নাম? কাগজে লেখা। অভিজ্ঞতা? সিভিতে আছে।
আমি কে — এটা বলতে পারলাম না।
কারণ জানি না।
প্রত্যেকের কাছে আলাদা
এক মানুষ বলল — তুই চুপচাপ।
আরেকজন বলল — তুই অনেক কথা বলিস।
আরেকজন বলল — তুমি রোমান্টিক।
তার মা বলল — ঠান্ডা লাগে।
চারজন একই মানুষকে দেখে। চারটা আলাদা মানুষ দেখল।
কোনটা সত্যি?
সবগুলো। কোনোটাই না।
বাবার চশমা
বাবা মারা গেল।
তার ঘরে ঢুকলাম। চশমা পড়ে আছে।
হাতে নিলাম। কাঁচে আঙুলের ছাপ।
মনে হলো — “আমি কারও ছেলে” এই জিনিসটা শেষ।
কোন অংশ হারিয়ে গেল বুঝলাম না।
শুধু বুঝলাম — কিছু একটা গেছে।
ডায়েরি
পুরনো ডায়েরি পড়লাম।
লেখা — “লেখক হব। ২৫ বছরে প্রথম বই।”
এখন বয়স ৩২। অফিসে কাজ করি।
যে ছেলে এটা লিখেছিল, সে কোথায়?
ডায়েরি বন্ধ করলাম। আর খুলিনি।
সবচেয়ে নতুন সত্য
এটা কেউ বলে না।
“আমি” আসলে একটা গল্প। তুমি নিজেকে যে গল্পটা বলছ, সেটাই তুমি।
ছোটবেলায় একরকম গল্প বলতে — আমি সাহসী, আমি দুরন্ত। প্রেমে পড়লে আরেকরকম — আমি রোমান্টিক, আমি অনুভূতিপ্রবণ। অফিসে ঢুকলে আরেকরকম — আমি দায়িত্বশীল, আমি পেশাদার।
গল্প বদলাচ্ছ। ভাবছ তুমি বদলাচ্ছ।
কিন্তু গল্প বদলালে যে বদলায়, সে আসলে কে?
আয়না
চোখের নিচে কালি। দাড়ি বাড়া। একটা সাদা চুল।
টেনে ফেললাম।
এই মুখ দশ বছর আগে আলাদা ছিল। দশ বছর পরে আরও আলাদা হবে।
তাহলে “আমি” কোনটা?
ভাবা বন্ধ করো
কেউ বলল — এত ভাবো কেন?
বললাম — জানি না।
বলল — ভাবা বন্ধ করো।
হাসলাম।
ভাবা বন্ধ করলে থাকবে কী?
আমি তো এই ভাবাটাই।
গল্প যে নিজের গল্প বলছে
“আমি” একটা গল্প — এটা মানলে একটা প্রশ্ন আসে।
গল্পটা কে বলছে?
যদি বলার মানুষটাই গল্প হয়, তাহলে গল্প নিজের গল্প বলছে।
এই ফাঁদ থেকে বেরোনো যায় না।
চিন্তা দিয়ে চিন্তাকে ধরা যায় না। যেমন হাত দিয়ে নিজের হাত ধরা যায় না।
শেষে
রাতে শুয়ে ভাবলাম — নিজেকে পেয়েছি?
উত্তর এল না।
কিন্তু একটা জিনিস বুঝলাম।
যাকে এতদিন খুঁজছিলাম — সে নেই।
আর এটা জানার পরেও কষ্ট হলো না।
কারণ যে কষ্ট পায়, সে-ও তো সেই গল্পের অংশ।
গল্প শেষ হলে কষ্টও থাকে না।

একটু ভাবনা রেখে যান