ব্লগ

ক্রমাগত সংকুচিত হতে থাকা জীবনের গণ্ডি

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

গভীর রাতে ঘুম না এসে ভাবছিলাম, আমার জীবনের গণ্ডি কত ছোট হয়ে গেছে। একসময় যে জীবন ছিল বিশাল, সেটা এখন একটা ছোট্ট ঘরের মতো। আর প্রতিদিন সেই ঘরটা আরও ছোট হচ্ছে।

ছোটবেলায় আমার জীবন ছিল পুরো পাড়া জুড়ে। সব বাড়িতে যেতে পারতাম। সবার সাথে কথা বলতে পারতাম। কোনো বাধা ছিল না। কোনো ভয় ছিল না।

যৌবনে জীবন ছিল পুরো শহর জুড়ে। যেকোনো জায়গায় যেতে পারতাম। যেকোনো স্বপ্ন দেখতে পারতাম। মনে হতো পুরো পৃথিবী আমার।

এখন আমার জীবন শুধু বাড়ি আর অফিসের মধ্যে। এই দুটো জায়গার বাইরে আমার আর কোনো অস্তিত্ব নেই।

আরও সংকুচিত হয়ে এসেছে বন্ধুদের গণ্ডি। একসময় অনেক বন্ধু ছিল। এখন শুধু জামিউল আর সাইফুল। তারাও মাঝে মাঝে ফোন দেয়।

আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক আরও সংকুচিত। একসময় বড় পরিবার ছিল। এখন শুধু হ্যাপি আর আরাশ। বাকি সবাই যেন অদৃশ্য হয়ে গেছে।

অর্থনৈতিক গণ্ডিও সংকুচিত। একসময় ভাবতাম অনেক কিছু কিনব। এখন শুধু প্রয়োজনীয় জিনিসই কিনতে পারি।

স্বপ্নের গণ্ডি সবচেয়ে বেশি সংকুচিত হয়েছে। একসময় বড় বড় স্বপ্ন দেখতাম। এখন শুধু চাই পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকতে।

হ্যাপি বলে, “তুমি বাড়ি থেকে বের হও না কেন?” আমি বলি, “কোথায় যাব?” সত্যি তো, আমার যাওয়ার জায়গাই নেই।

আরাশ বলে, “আব্বু, আমরা কোথাও ঘুরতে যাই না কেন?” আমি বলি, “যাব তো।” কিন্তু জানি যাব না। কারণ আমার জীবনের গণ্ডি ছোট।

অফিসেও আমার কাজের গণ্ডি সংকুচিত। একসময় অনেক দায়িত্ব ছিল। এখন শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটা কাজ। তাও ভয়ে ভয়ে করি।

কথা বলার গণ্ডিও ছোট হয়েছে। একসময় অনেক বিষয়ে কথা বলতাম। এখন শুধু প্রয়োজনীয় কথা বলি।

এমনকি আল্লাহর কাছে দোয়া করার গণ্ডিও সংকুচিত। একসময় অনেক কিছু চাইতাম। এখন শুধু চাই সবাই যেন ভালো থাকে।

সবচেয়ে ভয়ের কথা হলো, এই সংকুচন থামছে না। প্রতিদিন আরও ছোট হচ্ছে। একদিন হয়তো এত ছোট হয়ে যাবে যে শুধু আমি একা থাকব।

আমার চিন্তার গণ্ডিও ছোট হয়ে গেছে। একসময় বিশ্ব নিয়ে ভাবতাম। এখন শুধু আগামীকালের চিন্তা।

হ্যাপির সাথে কথা বলার বিষয়ও সংকুচিত। একসময় অনেক গল্প করতাম। এখন শুধু সংসারের কথা।

আরাশের সাথে খেলার গণ্ডিও ছোট। একসময় অনেক খেলা খেলতাম। এখন শুধু বারান্দায় বসে থাকি।

আমার পড়ার গণ্ডি প্রায় শূন্য। একসময় অনেক বই পড়তাম। এখন খবরের কাগজও ঠিকমতো পড়ি না।

এই সংকুচনের কারণ কী? বয়স? দায়িত্ব? নাকি ভয়? আমি জানি না।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, “হে আল্লাহ, আমার জীবনের গণ্ডি বাড়িয়ে দাও।” কিন্তু নিজেই সেই গণ্ডি আরও ছোট করে ফেলি।

রাতে ঘুমানোর আগে ভাবি, আগামীকাল আমার জীবনের গণ্ডি আরও কত ছোট হবে?

আর একদিন এই গণ্ডি এত ছোট হয়ে যাবে যে শুধু একটা কবর।

তখন হয়তো আমার সংকুচন থামবে।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *