ব্লগ

যখন শক্তিমান ভেঙে পড়ে

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

হ্যাপি জ্বরে কাঁপছে। তার কপাল ছুঁয়ে দেখি—পুড়ে যাচ্ছে। আমি ওষুধ এনে দিয়েছি, মাথায় পানি দিয়েছি। কিন্তু আমি কিছুই করতে পারছি না।

আমি যে এতটা অসহায় হতে পারি, এটা জানতাম না।

সবসময় ভেবেছি আমিই পরিবারের রক্ষক। আমি কামাই, আমি ভবিষ্যতের চিন্তা করি, আমি সব সমস্যার সমাধান করি। কিন্তু হ্যাপি অসুস্থ হলে আমি একটা শিশুর মতো হয়ে যাই।

আমার হাত কাঁপছে। আমি জানি না কী করতে হবে।

আরাশ জিজ্ঞেস করল, “বাবা, মায়ের কিছু হবে না তো?”

আমি বললাম, “না, কিছু হবে না।” কিন্তু আমার নিজের ভিতরে এই একই প্রশ্ন ঘুরছে।

একজন পুরুষ কীভাবে স্বীকার করে যে সে ভয় পেয়েছে? কীভাবে বলে যে তার স্ত্রী ছাড়া সে অচল?

আমি বন্ধুদের কাছে ফোন করেছি। “হ্যাপির জ্বর কমছে না। কী করব?” কিন্তু আমার আসল প্রশ্ন ছিল অন্য। আমি জানতে চেয়েছিলাম: “আমি যদি একা হয়ে যাই?”

গত রাতে হ্যাপি এত অসুস্থ ছিল যে সে কিছু খেতে পারেনি। আমি তার জন্য খিচুড়ি বানিয়েছি। কিন্তু খিচুড়িটা এত বাজে হয়েছিল যে আরাশও খেতে পারেনি।

আমি বুঝতে পারলাম, আমি শুধু টাকা-পয়সার ব্যবস্থা করি। আসল সংসারটা হ্যাপি চালায়।

সে রান্না করে, ঘর সাফ করে, আরাশের যত্ন নেয়, আমার যত্ন নেয়। আমি শুধু একজন guest যে টাকা দেয়।

এই উপলব্ধিটা আমার গলায় কাঁটার মতো বিঁধল।

আমি কি একজন অকেজো স্বামী?

বাইরের দুনিয়ায় আমি একজন লেখক, একজন চিন্তাশীল মানুষ। কিন্তু ঘরে এসে দেখি আমি কিছুই পারি না। আমি জানি না কীভাবে জ্বর কমানো যায়, কীভাবে সুস্বাদু খাবার বানানো যায়, কীভাবে আরাশকে সান্ত্বনা দেওয়া যায়।

আমার বাবা কেমন ছিলেন আমার মা অসুস্থ হলে? আমার মনে নেই। হয়তো তিনিও এমনই অসহায় হয়ে পড়তেন।

আমরা পুরুষরা কি সবাই এমন? বাইরে সিংহ, ঘরে ইঁদুর?

হ্যাপি আজ সকালে একটু ভালো লাগছে। সে আমার জন্য চা বানিয়েছে। আমি তাকে বললাম, “তুমি বিশ্রাম নাও।” কিন্তু সে হাসল। বলল, “তুমি চা বানাতে পার না।”

আমি পারি না। এটা স্বীকার করতে লজ্জা লাগে।

আমি বুঝলাম, পুরুষত্ব মানে শুধু শক্তিশালী হওয়া নয়। পুরুষত্ব মানে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করার সাহস।

আমি হ্যাপিকে বললাম, “তুমি অসুস্থ হলে আমি খুব ভয় পাই।”

সে আমার হাত ধরল। বলল, “আমিও তোমার জন্য ভয় পাই।”

হয়তো এটাই ভালোবাসা। একে অপরের জন্য ভয় পাওয়া।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *