স্বপ্নটা প্রতি রাতে একই। আমি মায়ের পেটে আছি, কিন্তু আমার চুল সাদা। হাত কাঁপছে। কোমর বাঁকা।
গর্ভে থেকেই বুড়ো হয়ে গেছি।
মা ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন। ডাক্তার আল্ট্রাসাউন্ড করে অবাক হয়ে বলছেন, “এই বাচ্চা তো আশি বছরের বুড়ো!”
স্বপ্নে দেখি, আমি জন্মের আগেই সব কিছু জেনে ফেলেছি। জানি কী কষ্ট আসবে। জানি কোথায় ব্যর্থ হব। জানি কাদের হারাব।
তাই জন্ম নিতে ইচ্ছে করে না।
মায়ের পেটেই থাকতে চাই। কারণ বাইরে এসে আর কী পাব? যা জানার জেনে ফেলেছি। যা বোঝার বুঝে ফেলেছি।
স্বপ্নে মা কাঁদেন। বলেন, “আমার বাচ্চা জন্ম নিতে চায় না কেন?”
আমি গর্ভ থেকে উত্তর দিই, “মা, বাইরের পৃথিবীতে আমার মতো মানুষের জায়গা নেই।”
“কেন নেই?”
“আমি জন্মের আগেই জেনে গেছি যে আমি কথা বলতে পারব না। কেউ আমার কথা বুঝবে না। আমি একা থাকব।”
মা বলেন, “তাহলে তুমি কবে বের হবে?”
“কখনো না।”
স্বপ্নে দেখি, আমি মায়ের পেটে বছরের পর বছর থাকি। মা বুড়ো হয়ে যান, কিন্তু আমি এখনো জন্ম নিই না।
একসময় মা মারা যান। তাও আমি জন্ম নিই না।
আমি সেই সন্তান যে জন্মেই নি। কিন্তু বেঁচে আছি গর্ভেই।
ঘুম ভেঙে গেলে ভাবি, এই স্বপ্নের মানে কী?
হয়তো আমি সত্যিই জন্ম নিইনি। যেটাকে আমি জীবন ভাবছি, সেটা আসলে জন্মের প্রস্তুতি।
আমি এখনো মায়ের গর্ভেই আছি। এখনো বাইরের পৃথিবীতে আসিনি।
তাই কেউ আমাকে দেখতে পায় না। আমার কথা শুনতে পায় না।
আল্লাহ, আমি কি কখনো জন্ম নেব? নাকি চিরকাল এই অজন্মের অবস্থায় থাকব?
হয়তো জন্ম নেওয়ার জন্য আগে সাহস লাগে।
কিন্তু সেই সাহস আমি কোথায় পাব?
একটু ভাবনা রেখে যান