ব্লগ

রাতের নীরবতায় যন্ত্রের চিৎকার

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

রাত দুইটায় চোখ খুলল। হ্যাপির ফোনে বার্তা এসেছে। “পিং” শব্দটা নীরব রাতে কানে বিঁধল।

হ্যাপি নড়েচড়ে করল। ঘুম ভেঙে গেল তার।

“কার খবর?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

“জানি না। ফেসবুকের কোনো সংবাদ হবে।”

আবার ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু মন অস্থির হয়ে গেছে। কী খবর এসেছে সেই চিন্তা মাথায় ঘুরছে।

এভাবেই আমাদের রাতের ঘুম হারিয়ে যায়। একটা ফোনের শব্দে।

আমাদের বাবা-মায়ের জমানায় রাত মানে ছিল নীরবতা। ঘুম মানে ছিল বিশ্রাম। এখন রাতেও আমাদের ফোন জেগে থাকে। আর আমরাও।

প্রতিদিন রাতে একই ঘটনা। কখনো বার্তা, কখনো ইমেইল, কখনো অ্যাপের সংবাদ। যন্ত্র জানে না দিন-রাতের পার্থক্য।

গতকাল আরাশ বলল, “বাবা, আমার ঘুম ভেঙে যায় তোমার ফোনের আওয়াজে।”

আমি বুঝলাম – আমাদের যন্ত্রের আওয়াজ আমাদের সন্তানের ঘুম হারাচ্ছে।

হ্যাপি বলে, “ফোন বন্ধ করে রাখি।”

কিন্তু আমরা পারি না। কারণ মনে হয় – হয়তো জরুরি কিছু আসবে। কোনো কাজের খবর আসবে।

কিন্তু রাত ২টায় কী জরুরি খবর আসতে পারে? কোনো সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট কি এত গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের ঘুম ভাঙতে হবে?

আমি লক্ষ করেছি – ঘুম ভাঙার পর আবার ঘুমাতে অনেক সময় লাগে। মাথায় নানা চিন্তা আসে। দুশ্চিন্তা বাড়ে।

ঘুম না হলে পরদিন সব কাজে মনোযোগ থাকে না। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

একদিন পরীক্ষা করে দেখলাম। রাতে ফোন নীরব করে রাখলাম। কত ভালো ঘুম হল! কত শান্তি লাগল!

সকালে দেখলাম ১৫টা সংবাদ এসেছে। কোনোটাই জরুরি নয়। সবই অদরকারি।

আমি বুঝলাম – আমরা একটা ভুল ধারণায় আছি। মনে করি সব সংবাদ জরুরি। কিন্তু আসলে ৯৫% সংবাদই অদরকারি।

এখন আমি রাত ১০টার পর ফোন নীরব করে রাখি। সকাল ৭টার আগে কোনো আওয়াজ হয় না।

ফলাফল? ঘুম ভালো হয়। মন শান্ত থাকে। পরদিন কাজে মনোযোগ বেশি থাকে।

কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা – রাতটা আবার আমাদের হয়েছে। যন্ত্রের নয়।

আমাদের ঘুম আমাদের অধিকার। কোনো অ্যাপ সেই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।

রাত মানে বিশ্রাম। নীরবতা। শান্তি। যন্ত্রের আওয়াজ নয়।

আমি আরাশকে বলেছি – রাতে ফোন ঘরের বাইরে রাখতে। ঘুমের সময় যন্ত্র যেন বন্ধু না হয়, শত্রু হয়।

কারণ ভালো ঘুম ছাড়া ভালো জীবন সম্ভব নয়।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *