ব্লগ

যন্ত্রের প্রতিযোগিতায়

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

অফিসে নতুন সফটওয়্যার এসেছে। AI-powered। পাঁচ মিনিটে সেই কাজ করে যেটা আমার লাগে দুই ঘণ্টা। আমার সহকর্মী রাফি বলল, “চমৎকার! কাজ আরো সহজ হবে।” আমি হাসলাম। কিন্তু মনে মনে ভাবলাম—আমি কি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাচ্ছি?

চ্যাটবট দেখেছি। কাস্টমার সার্ভিস। এক সেকেন্ডে উত্তর। ভুল নেই। ক্লান্তি নেই। আমার মতো মানুষের দরকার কী?

রাতে ইউটিউবে ভিডিও দেখি। “Jobs that AI will replace.” তালিকায় আমার পেশা আছে। হার্ট মিস করে। ২০৩০ সালের মধ্যে নাকি ৪০% চাকরি চলে যাবে।

আরাশকে বলি, “তুমি কী হতে চাও?” সে বলে, “রোবট ইঞ্জিনিয়ার।” স্মার্ট ছেলে। ভবিষ্যতের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে জানে। আমি কি পারব?

অফিসে গুজব শুনি। আগামী বছর রিস্ট্রাকচার। কিছু পজিশন কাটছাঁট। কোন পজিশন? যেগুলো AI করতে পারে।

আমি ঊনচল্লিশ বছরের। নতুন স্কিল শেখা কঠিন। কোডিং, ডেটা সাইন্স, AI—এগুলো তরুণদের জগৎ। আমার জগৎ কোথায়?

মাঝে মাঝে ভাবি—মানুষ হিসেবে আমার কী ভ্যালু? যন্ত্র যা পারে না, আমি কী পারি? আবেগ? সৃজনশীলতা? কিন্তু AI এখন কবিতাও লেখে। ছবিও আঁকে।

স্ত্রীকে বলি, “হয়তো আমার চাকরি চলে যাবে।” সে বলে, “তুমি অন্য কিছু করবে।” কিন্তু অন্য কী? পঞ্চাশ বছর বয়সে নতুন ক্যারিয়ার?

বাবার সময় একটা চাকরি সারাজীবনের জন্য। আমার সময় দশ বার চাকরি পাল্টাতে হয়েছে। আরাশের সময় হয়তো চাকরি বলে কিছু থাকবেই না।

AI কোম্পানিগুলোর শেয়ার দেখি। আকাশছোঁয়া। কর্মচারীর সংখ্যা দেখি। ন্যূনতম। ভবিষ্যতের কোম্পানি হবে—কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ার আর হাজারো যন্ত্র।

সবচেয়ে ভয়ানক প্রশ্ন—মানুষের অস্তিত্বের অর্থ কী যদি আমাদের কাজ যন্ত্র করে? কাজ ছাড়া আমি কে? আমার পরিচয় কী?

বন্ধু সাইফুল বিজনেস করে। বলে, “AI যুগে মানুষের কাজ হবে AI-কে ম্যানেজ করা।” কিন্তু কতজন AI ম্যানেজার দরকার? কোটি মানুষের মধ্যে হাজার?

ইতিহাসে এমনই হয়েছে। কৃষি বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব। মানুষ নতুন কাজ খুঁজে নিয়েছে। কিন্তু এবার ভিন্ন। এবার যন্ত্র চিন্তাও করে।

রাতে ঘুমাতে পারি না। স্বপ্নে দেখি রোবট আমার ডেস্কে বসে আছে। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে।

আমি কি যন্ত্রের সাথে প্রতিযোগিতায় পারব? নাকি সহযোগিতা করতে হবে? কিন্তু সহযোগিতার মানে কী যদি যন্ত্র আমার চেয়ে ভালো?

হয়তো উত্তর দার্শনিক। কাজের বাইরে জীবনের অর্থ খুঁজতে হবে। কিন্তু খাবো কী? বাঁচব কীভাবে?

ভবিষ্যৎ অন্ধকার নাকি উজ্জ্বল? উত্তর জানি না। শুধু জানি—পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

কিন্তু কীভাবে?

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *