ব্লগ

টয়লেটে দাঁড়িয়ে কাঁদতে চাওয়ার গল্প

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আজ দুপুরে অফিসের বাথরুমে গিয়েছি। কাঁদার জন্য।

সকালে বস বকেছে। বলেছে, “এই কাজ কেন হয়নি?” জানি না কী উত্তর দেব। কাজটা করার সময় পাইনি। অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। কিন্তু সেটা বলা যায় না।

চোখে পানি এসেছিল। কিন্তু অফিস রুমে কাঁদা যায় না। সবাই দেখবে। তাই বাথরুমে এসেছি।

দাঁড়িয়ে আছি আয়নার সামনে। চোখে হাত দিয়েছি। কাঁদার চেষ্টা করছি। কিন্তু পানি আসছে না।

কী অদ্ভুত। এত কষ্ট, কিন্তু কান্না আসছে না।

হয়তো কান্নাও শেষ হয়ে গেছে। হয়তো এত দিন চেপে রাখার কারণে কান্নার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।

মনে পড়ে, ছোটবেলায় কাঁদতাম খুব সহজে। একটু ব্যথা পেলেই কান্না। একটু বকা খেলেই কান্না। এখন এত ব্যথা, এত বকা, কিন্তু কান্না নেই।

বাথরুমের আয়নায় নিজেকে দেখি। চোখ লাল। কিন্তু পানি নেই। মনে হয় আমি একটা শুকনো কুয়া।

বাইরে কারো পায়ের আওয়াজ। কেউ আসছে। তাড়াতাড়ি চোখ মুছি। মুখ ধুয়ে নিই। স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করি।

শাহিন ভাই ঢুকলেন। বললেন, “কেমন আছো?” আমি বললাম, “ভালো।” আরেকটা মিথ্যা।

ফিরে এলাম ডেস্কে। কাজ শুরু করলাম। কিন্তু মনে আছে সেই কাঁদতে না পারার ব্যর্থতা।

মানুষ কাঁদে কেন? কষ্ট কমানোর জন্য। কিন্তু আমি কাঁদতে পারি না। তাহলে আমার কষ্ট কমবে কিভাবে?

রাতে বাড়ি ফিরে হ্যাপিকে বলি, “আজ মন খারাপ।” হ্যাপি বলে, “কাঁদো।” আমি বলি, “কাঁদতে পারি না।” হ্যাপি চুপ থাকে।

আরাশ একদিন কেঁদেছিল। সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে। অনেক কেঁদেছিল। তারপর ভালো হয়ে গিয়েছিল। কান্না তার কাজ করেছিল।

আমার কান্না কাজ করে না। হয়তো আমি কাঁদার পদ্ধতি ভুলে গেছি।

আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আমি যেন আবার কাঁদতে পারি। যেন আমার চোখের পানি আবার ফিরে আসে।

কারণ কান্না না পারলে মানুষ হয়তো পাথর হয়ে যায়।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *