রাত দুইটা। সবাই ঘুমিয়ে। আমি বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছি।
আমি কাঁদছি।
নিঃশব্দে। যাতে কেউ শুনতে না পায়।
আজ আরাশের স্কুলে অভিভাবক সভা ছিল। তার ক্লাস টিচার আমাকে বলেছেন, “আরাশ খুব ভালো ছেলে। কিন্তু তার কিছু সমস্যা আছে।”
“কী সমস্যা?”
“সে অন্য বাচ্চাদের মতো আত্মবিশ্বাসী নয়। মনে হয় কোনো কমপ্লেক্স আছে।”
আমার বুকে তীর বিঁধল।
“কী ধরনের কমপ্লেক্স?”
“সে মনে করে তার পরিবার অন্যদের মতো ভালো নয়। তার বাবার পেশা নিয়ে লজ্জা পায়।”
আমার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল।
“আরাশ আপনাকে কী বলেছে?”
“সে বলেছে, তার বাবা তেমন কোনো কাজ করেন না। শুধু লেখালেখি করেন।”
আমার ভেতরটা ভেঙে গেল।
আমার ছেলে আমাকে নিয়ে লজ্জা পায়।
বাড়িতে এসে আমি আরাশের দিকে তাকাতে পারিনি। সে খেলছিল। হাসছিল। কিন্তু আমি জানি তার ভেতরে আমার জন্য লজ্জা আছে।
এখন আমি বাথরুমে একা কাঁদছি।
আমি একজন ব্যর্থ বাবা। আমার ছেলেকে গর্বিত করতে পারিনি।
অন্য বাবারা তাদের সন্তানদের নিয়ে গর্ব করেন। আমার সন্তান আমাকে নিয়ে লজ্জা করে।
আমি কোথায় ভুল করলাম?
আমি কি ভুল পেশা বেছে নিয়েছিলাম? আমার কি ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়া উচিত ছিল?
আমি কি আরাশকে ভালো জীবন দিতে পারিনি?
আমার চোখ দিয়ে অবিরাম পানি পড়ছে।
আমি ভাবি, আমার বাবা কি কখনো আমার জন্য এমন কেঁদেছিলেন?
হয়তো কেঁদেছিলেন। হয়তো তিনিও নিজেকে ব্যর্থ বাবা মনে করতেন।
আমি নিজেকে প্রশ্ন করি—আমি কি সত্যিই ব্যর্থ? নাকি আমার পরিমাপ ভুল?
আমি আরাশকে ভালোবাসি। তার জন্য সবকিছু করার চেষ্টা করি। কিন্তু সেটা যথেষ্ট নয়।
আমাকে তার গর্বের কারণ হতে হবে।
আমি পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে বের হই। আয়নায় নিজেকে দেখি।
কাল থেকে আমি আরাশের জন্য নতুন করে চেষ্টা করব।
তাকে গর্বিত করার চেষ্টা করব।
যদিও জানি না কীভাবে।
একটু ভাবনা রেখে যান