সকাল দশটা। আমি এখনো কিছু খাইনি। খিদে নেই।
হ্যাপি বলে, “কিছু খাবে না?”
“খিদে নেই।”
দুপুর দুইটা। হ্যাপি ভাত দিয়ে দেয়। আমি দুই চামচ খেয়ে থেমে যাই।
“আর খাবে না?”
“পেট ভরে গেছে।”
মিথ্যা। পেট ভরেনি। কিন্তু খেতে ইচ্ছা করছে না।
আমার বয়স বাড়ার সাথে সাথে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
ডাক্তার বলেছেন, “মেটাবলিজম স্লো হয়ে গেছে। এজন্য ক্ষুধা কম।”
কিন্তু ক্ষুধা কম মানে জীবনের আনন্দ কম।
আমার মনে পড়ে যৌবনের কথা। কী প্রচণ্ড খিদে লাগত। খাওয়ার টেবিলে বসে পেট ভরে খেতাম।
এখন খাবার দেখলে বমি আসে।
হ্যাপি বিভিন্ন রকম খাবার বানায়। কিন্তু কিছুই খেতে পারি না।
“তোমার পছন্দের খিচুড়ি বানিয়েছি।”
আমি একটু খাই। কিন্তু স্বাদ নেই।
আমার ওজন কমতে শুরু করেছে।
পাঁচ বছর আগে ৮৫ কেজি ছিলাম। এখন ৭৫।
আমি আয়নায় দেখি। গালা-পড়া মুখ। চোখ ভেতরে ঢুকে গেছে।
আমাকে অসুস্থ দেখায়।
আরাশ চিন্তিত। “বাবা, তুমি এত চিকন হয়ে যাচ্ছ কেন?”
আমি উত্তর দিতে পারি না।
আমি ভাবি, এই না খেতে পারাটা কি মৃত্যুর দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া?
শরীর কি নিজেকে বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে?
আমি জোর করে খাওয়ার চেষ্টা করি।
কিন্তু শরীর নেয় না।
এক সময় আমি খাওয়ার জন্য বেঁচে থাকতাম।
এখন বাঁচার জন্য খাই।
কিন্তু সেই খাওয়াটাও হয় না।
একটু ভাবনা রেখে যান