১৫ তারিখ। মাসের মাঝামাঝি। আমি পকেটে হাত দিই।
দুইশ টাকা।
আরো পনেরো দিন বাকি। দুইশ টাকায় পনেরো দিন?
আমি মনে করার চেষ্টা করি, এই মাসে কোথায় বেশি খরচ হয়েছে।
আরাশের বই কিনেছি—পাঁচশ টাকা। হ্যাপির ওষুধ কিনেছি—তিনশ টাকা। বাড়ি ভাড়া দিয়েছি—আট হাজার টাকা।
হিসাব মিলছে না। টাকা কোথায় গেল?
আমি আবার পকেটে হাত দিই। যেন আরো টাকা পাব।
কিছু নেই।
এই অনুভূতিটা আমার খুব চেনা। প্রতি মাসে ১৫ তারিখের পর শুরু হয়।
আমি ক্যালকুলেটর বের করি। দৈনিক খরচের হিসাব।
দুইশ ভাগ পনেরো = তেরো টাকা।
দিনে তেরো টাকা! এটা দিয়ে কী হবে?
একটা চা-বিস্কুটও হবে না।
আমি হ্যাপিকে বলি, “এই মাসে খরচ একটু কমাতে হবে।”
হ্যাপি জানে এর মানে কী। মাছ-মাংস বন্ধ। দুধ বন্ধ। ফল বন্ধ।
আরাশ জিজ্ঞেস করে, “বাবা, আমি বন্ধুর সাথে সিনেমা দেখতে যেতে পারি?”
আমার বুকে কাঁটা বিঁধে।
“আগামী মাসে।”
আরাশের মুখ মলিন হয়ে যায়।
আমি ভাবি, আমার বেতন পয়লা তারিখে পেয়েও পনেরো তারিখে খতম?
আমি কি অপব্যয়ী? নাকি বেতনটাই কম?
আমার সহকর্মীরা কীভাবে মাস চালায়?
আমি পকেটে আবার হাত দিই। এই অভ্যাস ছাড়তে পারি না।
হয়তো কোনো ভুলে একটা নোট থেকে গেছে।
কিছু নেই।
খালি পকেট। খালি স্বপ্ন। খালি ভবিষ্যৎ।
একটু ভাবনা রেখে যান