আরাশ খেলনার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে। তার চোখে স্বপ্নের মতো জ্বলছে একটা রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি।
“বাবা, এইটা কত দাম?”
দোকানদার বলল, “আটশ টাকা।”
আমার পকেটে তিনশ টাকা।
আরাশ আমার দিকে আশার চোখে তাকায়।
“বাবা, কিনবে?”
আমার গলার কাছে কিছু একটা আটকে গেল।
“আরাশ, এইটা তো খুব দামি।”
“কিন্তু বাবা, আমার তো কোনো গাড়ি নেই।”
আরাশ ঠিক বলেছে। তার বন্ধুদের কাছে রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি আছে। সে একা পিছিয়ে।
“আরাশ, পরে কিনে দেব।”
আরাশের মুখ মলিন হয়ে গেল। সে জানে “পরে” মানে কখনো না।
আমরা বাড়ি ফিরলাম। আরাশ চুপচাপ। আমিও চুপচাপ।
রাতে আরাশ ঘুমিয়ে গেল। আমি জেগে থাকলাম।
আমি ভাবলাম, আটশ টাকা একটা গাড়ির জন্য। আমার কাছে তিনশ। আরো পাঁচশ টাকা চাই।
আমি আমার লেখালেখির টাকা গুনলাম। কিছুই নেই।
আমি আমার পুরনো বইগুলো দেখলাম। এইগুলো বিক্রি করলে হয়তো দুশ টাকা পাব।
আমি হ্যাপির গহনা দেখলাম। কিন্তু সেগুলো তার মায়ের দেওয়া। সেগুলো চাইতে পারি না।
আমি বাড়িতে আর কী আছে তা খুঁজলাম। কিছুই নেই যা বিক্রি করা যায়।
আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ল।
একটা আটশ টাকার খেলনা কিনতে পারছি না আমার ছেলের জন্য। আমি কেমন বাবা?
আমার মনে পড়ল আমার শৈশবের কথা। আমিও এমন খেলনা চেয়েছিলাম। আমার বাবাও পারেননি।
এখন আমি বুঝি তিনি কত কষ্ট পেয়েছিলেন।
আমি ভাবলাম, আরাশ বড় হয়ে তার ছেলেকে কি একই কষ্ট দেবে?
এই দারিদ্র্য কি প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলতেই থাকবে?
আমি মধ্যরাত পর্যন্ত কাঁদলাম।
পরদিন সকালে আরাশ উঠে আমাকে বলল, “বাবা, আমার ওই গাড়ির দরকার নেই।”
আমি জানি সে মিথ্যা বলছে। সে আমার কষ্ট দেখে নিজের ইচ্ছা চাপা দিচ্ছে।
এগারো বছরের একটা বাচ্চা তার বাবার দুর্বলতা বুঝে ফেলেছে।
আমি আরাশকে জড়িয়ে ধরলাম।
“আরাশ, একদিন আমি তোর জন্য অনেক খেলনা কিনে দেব।”
“কখন বাবা?”
“যখন আমার অনেক টাকা হবে।”
“কবে হবে তোমার অনেক টাকা?”
আমি উত্তর দিতে পারলাম না।
কারণ আমি জানি না।
হয়তো কখনোই হবে না।
একটু ভাবনা রেখে যান