ব্লগ

লাইভের লোভ

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

ফেসবুকে একটা লাইভ ওয়াজ দেখছিলাম। হুজুর বলছেন, “দুনিয়ার লোভ ত্যাগ করুন। অর্থের মোহ হলো সব পাপের মূল।”

আমি মন দিয়ে শুনছিলাম। কী সুন্দর কথা।

তখন দেখি স্ক্রিনের এক পাশে সুপারচ্যাট চালু। মানুষ টাকা পাঠাচ্ছে। আর সেই টাকার message গুলো ভেসে উঠছে।

“৫০০ টাকা – হুজুর আমার জন্য দোয়া করবেন?”

“১০০০ টাকা – আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন।”

হুজুর প্রতিটা টাকার message পড়ছেন। ধন্যবাদ দিচ্ছেন। বলছেন, “আল্লাহ আপনাদের বরকত দিন।”

আমি ভাবলাম – এটা কী?

একদিকে বলছেন অর্থের মোহ ত্যাগ করতে। অন্যদিকে সুপারচ্যাট দিয়ে টাকা নিচ্ছেন।

কিন্তু তারপর মনে হলো, হয়তো ভুল বুঝছি। হয়তো টাকাগুলো দাতব্য কাজে খরচ হয়।

তাহলে সমস্যা কোথায়?

হয়তো সমস্যা এখানে যে, উনি টাকার কথা বলছেন, আবার টাকাও নিচ্ছেন। একই সাথে।

যেমন কেউ বলে, “সিগারেট খারাপ,” তারপর নিজেই সিগারেট খায়।

কিন্তু হয়তো আমি ভুল। হয়তো উনি মনে করেন দান নেওয়া আর লোভ – দুটো আলাদা জিনিস।

তাহলে পার্থক্য কোথায়?

লোভ মানে নিজের জন্য চাওয়া। আর দান মানে ভালো কাজের জন্য নেওয়া।

কিন্তু মানুষ কীভাবে বুঝবে কোনটা কী?

আমি দেখলাম, যখন কেউ বেশি টাকা পাঠায়, তখন হুজুরের গলার স্বর একটু বদলায়। একটু বেশি খুশি হন।

সেটা কি স্বাভাবিক? নাকি লোভের লক্ষণ?

আমি জানি না।

তারপর একটা মন্তব্য দেখলাম। কেউ লিখেছে, “হুজুর, আপনি টাকার লোভে ওয়াজ করেন?”

হুজুর রেগে গেলেন। বললেন, “আস্তাগফিরুল্লাহ! আমি কোনো টাকার লোভে কিছু করি না। যা পাই, দাতব্য কাজে খরচ করি।”

তারপর বললেন, “যারা এমন খারাপ চিন্তা করে, তারা নিজেরাই লোভী।”

আমি শুনে অস্বস্তি হলো।

কেন জানি মনে হলো, যদি সত্যিই লোভ না থাকে, তাহলে এত রেগে যাওয়ার কী দরকার?

যদি সত্যিই সব টাকা দাতব্য কাজে যায়, তাহলে account দেখানো যায় না?

কিন্তু হয়তো আমি বেশি সন্দেহ করছি। হয়তো উনি সত্যিই সৎ।

তাহলে আমার অস্বস্তি কেন?

হয়তো কারণ এই। যখন কেউ অর্থের বিরুদ্ধে বলে, তখন আমি আশা করি তার জীবনে সেই reflection দেখতে।

কিন্তু যখন দেখি উনি টাকার message গুলো মন দিয়ে পড়ছেন, তখন মনে হয় contradiction আছে।

নাকি আমার expectation ভুল?

হয়তো ইসলামে টাকা নেওয়া forbidden নয়। শুধু লোভ forbidden.

কিন্তু লোভ আর need এর মধ্যে পার্থক্য কী?

আমি ভাবলাম আমার নিজের কথা। আমি যখন বলি, “টাকা সব নয়,” তখন আমি কি সত্যিই তা মানি?

নাকি আমিও টাকার দরকার হলে compromise করি?

সত্যি কথা বলতে, করি।

তাহলে হুজুরকে blame করার অধিকার আমার কী?

হয়তো সবাই এরকমই। সবাই ভালো কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে টাকার দরকার হয়।

তাহলে সমস্যা কোথায়?

হয়তো সমস্যা expectation এ। আমরা ধর্মীয় মানুষদের কাছে perfect behavior আশা করি।

কিন্তু তারাও তো মানুষ। তাদেরও দরকার আছে।

তাহলে কি আমি ভুল?

নাকি তারা একটু বেশি transparent হলে ভালো হতো?

যেমন বলতে পারতেন, “এই টাকা দিয়ে আমি আমার খরচ চালাই এবং দাতব্য কাজ করি।”

কিন্তু তাহলে হয়তো কম টাকা আসতো।

আর সেটাই হয়তো আসল সমস্যা।

মানুষ transparency সহ্য করে না। চায় beautiful illusion.

কিন্তু illusion তো সত্য নয়।

আমি জানি না কোনটা ঠিক।

আমি শুধু জানি, যখন কেউ লোভের বিরুদ্ধে বলে এবং একই সাথে টাকার জন্য খুশি হয়, তখন আমার বিশ্বাস কমে যায়।

হয়তো এটাই মানুষের limitation.

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *