
একা
তুমি সবসময় একা ছিলে। শুধু এতদিন টের পাওনি।
শুক্রবার সন্ধ্যা
চারজন বন্ধু। চায়ের কাপ। হাসি।
তারপর হঠাৎ চুপ।
সেই চুপের মধ্যে বুঝলাম — আমি একা।
চারজন মানুষের মাঝে বসে।
অন্ধকার
ছোটবেলায় রাতে আলো নিভে গেলে কাঁদতাম।
কেউ জিজ্ঞেস করত — কী হয়েছে?
বলতে পারতাম না।
এখন বুঝি।
অন্ধকারকে ভয় পাইনি।
ভয় পেয়েছিলাম নিজেকে।
অন্ধকারে আর কিছু থাকে না। শুধু তুমি থাকো।
এবং তোমার মাথার ভেতরের শব্দ।
ফোন
রাতে ঘুমাতে যেতে দেরি হয়।
ফোন স্ক্রল করি। টিভি দেখি।
কারণ বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করলে নিজের মুখোমুখি।
সেটা এড়াতে চাই।
কিন্তু যাকে এড়াতে চাইছ — সে তুমি।
কাচের বাক্স
পারিবারিক অনুষ্ঠান। অনেক মানুষ। হাসি। গল্প।
তুমি একটা কোণায়।
মনে হয় কাচের বাক্সের ভেতরে।
সব দেখছ। কিন্তু ছুঁতে পারছ না।
এই বাক্স ভাঙা যায় না।
তোমার ত্রুটি না।
মানুষ হওয়ার শর্ত।
পাশে কেউ
রাতে পাশে কেউ ঘুমাচ্ছে।
শ্বাসের শব্দ শুনছ।
এত কাছে।
কিন্তু সে স্বপ্ন দেখছে যেখানে তুমি নেই।
ভালোবাসলেও একটা জায়গা থাকে যেখানে শুধু তুমি।
শিশুর প্রশ্ন
একটা শিশু জিজ্ঞেস করে — তোমার কখনো একা লাগে?
হ্যাঁ।
শিশু — তাহলে কী করো?
কিছু না। শুধু থাকি।
শিশু — থাকলে কি চলে যায়?
না। অভ্যাস হয়ে যায়।
কী ভাবছ
কেউ জিজ্ঞেস করে — কী ভাবছ?
বলি — কিছু না।
মিথ্যা।
কারণ কিছু সত্য বললে অন্যরকম শোনায়।
কিছু সত্য শুধু নিজের সাথে থাকে।
সবাই
রাস্তায় শত শত মানুষ।
সবাই কোথাও যাচ্ছে।
সবার একা লাগছে।
কিন্তু এই কথা কেউ বলে না।
মনে হয় — শুধু আমারই।
কিন্তু সবার।
এটা জানলে একা লাগা কমে না।
কিন্তু বোঝা যায়।
ঘর
একটা জায়গা আছে ভেতরে।
শীতল। একটু অন্ধকার।
কেউ পৌঁছায় না।
কিন্তু এই জায়গাটাই তোমার ঘর।
যেখানে বিশ্রাম নাও সবার কাছ থেকে।
এমনকি নিজের কাছ থেকেও।
শেষ কথা
তুমি একা এসেছিলে।
একা যাবে।
মাঝখানে যতই মানুষের সাথে থাকো —
ভেতরে একটা জায়গা সবসময় একা।
এটা দুঃখের না।
এটা সত্য।

একটু ভাবনা রেখে যান