ব্লগ

লুকানো চিকিৎসা

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

সহকর্মী আনিস জিজ্ঞেস করল, “কাল কোথায় গিয়েছিলে? অফিসে নেই দেখে।”

আমি বললাম, “ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম।”

আনিস বলল, “কী সমস্যা? সিরিয়াস কিছু?”

আমি বললাম, “না, routine check-up।”

মিথ্যা। আমি psychologist-এর কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা বলতে পারলাম না।

কেন পারলাম না? কারণ জানি আনিস কী ভাববে।

“মানসিক সমস্যা? পাগল নাকি?”

“এত বয়সে therapist লাগে? সহ্যশক্তি নেই?”

“Normal মানুষদের তো এসব লাগে না।”

এই stereotypes আমার মাথায় আছে। আর এগুলোর ভয়ে সত্য লুকাই।

বাবাকে বলতে পারি না। তিনি বলবেন, “এসব পশ্চিমা ফ্যাশন। আমাদের সময় কোনো থেরাপি ছিল না। তবুও বেঁচেছি।”

মাকে বলতে পারি না। তিনি বলবেন, “কী হয়েছে তোর? নামাজ-কালাম পড়িস না? আল্লাহর কাছে দোয়া কর।”

বন্ধুদের বলতে পারি না। তারা বলবে, “মন খারাপ হলে আড্দা দাও। বন্ধুরা তো আছি।”

সবাই মনে করে mental health = weakness।

অথচ diabetes হলে ডাক্তার দেখায়। Blood pressure বাড়লে ওষুধ খায়। কেউ বলে না “ইচ্ছাশক্তি দিয়ে ঠিক কর।”

কিন্তু depression বা anxiety হলে সবাই expert হয়ে যায়।

“চিন্তা কম কর।” “Positive থাক।” “Exercise কর।”

যেন আমি চেষ্টা করি না। যেন আমি ইচ্ছা করেই upset থাকি।

একবার খোলাখুলি বলার চেষ্টা করেছিলাম। বন্ধু রুমানকে।

বলেছিলাম, “আমার মনে হয় আমার therapy দরকার।”

রুমান হেসে বলেছিল, “থেরাপি? তুই পাগল নাকি? তোর কী সমস্যা হবে?”

সেদিনের পর আর কাউকে বলিনি।

লুকিয়ে lুকিয়ে appointment নিই। অফিস থেকে বলি “bank-এ যাব।” “দাঁতের ডাক্তার দেখাব।”

এই লুকোচুরি আরো কষ্টকর। যেন আমি কোনো crime করছি।

therapy session-এর পর ভালো লাগে। কিন্তু সেই ভালো লাগার কথাও কাউকে বলতে পারি না।

যদি বলি “আজ therapist-এর কাছে গিয়ে ভালো কথা হয়েছে,” সবাই অবাক হবে।

এই secrecy নিজেই একটা burden।

আমাদের society-তে physical illness নিয়ে sympathy আছে। Mental illness নিয়ে judgment আছে।

Cancer patient-কে support করে সবাই। Depression patient-কে avoid করে সবাই।

Broken leg দেখলে help করার চেষ্টা করে। Broken mind দেখলে distance রাখার চেষ্টা করে।

Worst part হচ্ছে – এই stigma শুধু অন্যদের নয়। আমার নিজেরও।

আমি নিজেও sometimes ভাবি – “আমি কি সত্যিই weak? Normal মানুষরা কি therapy ছাড়াই manage করে?”

এই self-doubt therapy-র progress slow করে দেয়।

Therapist বলে, “এই stigma নিয়ে কথা বলো।” কিন্তু stigma নিয়ে কথা বলতে গেলেও stigma face করতে হয়।

Catch-22 situation।

মাঝে মাঝে ভাবি – openly বলে দেব। “হ্যাঁ, আমি therapy নিচ্ছি। সমস্যা কী?”

কিন্তু সাহস পাই না। Professional reputation নষ্ট হওয়ার ভয়। Social circle থেকে বাদ পড়ার ভয়।

এই ভয়গুলো irrational কি না জানি না। হয়তো real consequences আছে।

হয়তো সত্যিই job interviews-এ discriminate করবে। Marriage proposals-এ reject করবে।

Mental health stigma real। আর এই reality-র সাথে fight করা individual-এর পক্ষে কঠিন।

তবে gradually change আসছে। কিছু celebrities openly বলছে mental health-এর কথা।

Social media-তে awareness বাড়ছে।

কিন্তু real life-এ এখনো অনেক পথ বাকি।

আমি যে generation-এ আছি, আমাদের হয়তো pioneer হতে হবে। Openly কথা বলতে হবে।

কিন্তু সেই pioneering-এর cost অনেক বেশি।

তবুও একদিন হয়তো বলব। নিজের অভিজ্ঞতা share করব।

যাতে পরের generation-কে এই লুকোচুরি করতে না হয়।

আজ নয়। কিন্তু একদিন।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *