রিপোর্টে লেখা: Blood Sugar – 180 mg/dl (Fasting)।
ডাক্তার বললেন, “আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে। এখন থেকে চিনি খাওয়া বন্ধ।”
আমি ঘরে ফিরে মিষ্টির দোকানের দিকে তাকাই। আর কখনো রসগোল্লা খেতে পারব না।
আমার মনে পড়ে ছোটবেলার কথা। পূজার সময় মিষ্টি খাওয়ার আনন্দ। জন্মদিনে কেক কাটার খুশি।
সব শেষ।
আমি ভাবি, আজই শেষবারের মতো মিষ্টি খাই।
দোকানে গিয়ে রসগোল্লা, সন্দেশ, কালোজাম কিনি। বাড়িতে এনে একটা একটা করে খাই।
প্রতিটি মিষ্টির স্বাদ আমি মনে রাখার চেষ্টা করি। রসগোল্লার মিষ্টি রস। সন্দেশের নরম টেক্সচার।
হ্যাপি বলে, “এত খেও না। ক্ষতি হবে।”
“আজই তো শেষ দিন।”
আরাশ জিজ্ঞেস করে, “বাবা, তুমি আর মিষ্টি খেতে পারবে না?”
“না।”
“কেন?”
“আমার ডায়াবেটিস হয়েছে।”
আরাশ চুপ হয়ে যায়। সেও বুঝে যায় এটা গুরুতর।
আমি ভাবি, জীবনে কত কিছু ছেড়ে দিতে হয়। প্রথমে যৌবন। তারপর স্বাস্থ্য। এখন প্রিয় খাবার।
এই ডায়াবেটিস আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে আমার শরীর ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।
আমার বাবারও ডায়াবেটিস ছিল। তিনি শেষ বয়সে কত কষ্ট করেছিলেন।
আমিও কি সেই পথে?
রাতে শোয়ার আগে একটা গুলাব জামুন খাই। শেষবারের মতো।
এর স্বাদ আমি কখনো ভুলব না।
আগামীকাল থেকে চিনি ছাড়া চা। চিনি ছাড়া জীবন।
মধ্যবয়সের আরেকটি ত্যাগ।
একটু ভাবনা রেখে যান