“বাবা, আমাদের এখন কোথায় যেতে হবে?” আরাশ জিজ্ঞেস করে।
আমি জানি আমাদের বাড়ি ভাড়া বকেয়া। বাড়িওয়ালা নোটিশ দিয়েছেন। কিন্তু আরাশকে বলি, “আমরা নতুন একটা বাড়িতে যাব। সেটা এর চেয়ে সুন্দর।”
মিথ্যা।
“বাবা, তুমি কেন আজকাল খাবার সময় খাও না?”
আমি খাবার কমিয়ে দিয়েছি যাতে আরাশ আর হ্যাপি ভালোমতো খেতে পারে। কিন্তু বলি, “আমার এখন ডায়েট করার দরকার।”
মিথ্যা।
“বাবা, তোমার মোবাইল কোথায়?”
আমি মোবাইল বিক্রি করে দিয়েছি আরাশের স্কুলের বই কিনতে। বলি, “ঠিক করতে দিয়েছি।”
মিথ্যা।
প্রতিদিন আমি আরাশের সামনে অসংখ্য মিথ্যা বলি। প্রতিটি মিথ্যা তাকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু প্রতিটি মিথ্যা আমার বিবেককে কুরে কুরে খায়।
আমি আরাশকে শেখাই সত্য বলতে। অথচ আমি নিজেই মিথ্যা বলি।
আমি আরাশকে বলি, “মিথ্যা বলা পাপ।” অথচ আমি প্রতিদিন পাপ করি।
এই দ্বিচারিতা আমাকে টুকরো টুকরো করে।
কিন্তু আমি কী করব? আরাশকে বলব যে আমরা গরিব? বলব যে তার বাবা অক্ষম? বলব যে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত?
একটা এগারো বছরের বাচ্চা এই সব সত্য সহ্য করতে পারবে?
আমার মনে পড়ে, আমার বাবাও আমার সামনে এমন মিথ্যা বলতেন। তিনি বলতেন, “সব ঠিক আছে।” অথচ আমি জানতাম কিছুই ঠিক নেই।
এখন বুঝি, বাবারা মিথ্যা বলে সন্তানদের নিরাপত্তা দিতে।
কিন্তু এই মিথ্যার দাম কত?
আমি ভাবি, আরাশ কি বুঝে ফেলেছে আমার মিথ্যাগুলো? সে কি দেখতে পায় যে আমি অভিনয় করছি?
হয়তো সেও আমার সাথে অভিনয় করছে। হয়তো সেও ভান করছে যে সব কিছু ঠিক আছে।
হয়তো আমরা দুজনেই একে অপরকে রক্ষা করার জন্য মিথ্যার জাল বুনছি।
কিন্তু এই মিথ্যার জালে আমাদের আসল সম্পর্কটা কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে?
আমি চাই আরাশের সাথে সত্যি কথা বলতে। চাই তাকে বাস্তবতা দেখাতে। কিন্তু ভয় পাই যে সে ভেঙে পড়বে।
একদিন আরাশ বড় হবে। তখন সে জানবে তার বাবা কত মিথ্যা বলেছে। তখন সে আমাকে ক্ষমা করবে তো?
নাকি সে ভাববে তার বাবা একজন মিথ্যুক ছিল?
আল্লাহ, আমি কি ভুল করছি? প্রেমের জন্য মিথ্যা বলা কি ঠিক?
নাকি সন্তানের সাথে সব সময় সত্যি কথাই বলা উচিত?
আমি জানি না।
আমি শুধু জানি, আমার প্রতিটি মিথ্যার পেছনে আরাশের জন্য ভালোবাসা।
কিন্তু ভালোবাসা কি মিথ্যার অজুহাত হতে পারে?
একটু ভাবনা রেখে যান