ব্লগ

মিটিংয়ের “১০ মিনিট” এর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

কনফারেন্স রুমে ঢুকতেই বস বললেন, “একটা খুব শর্ট মিটিং। ১০ মিনিটেই শেষ করব।” এই কথা শুনে মনে একটা স্বস্তি এল। ১০ মিনিট মানে খুব দ্রুত শেষ। বাকি কাজগুলো করার সময় পাব। কিন্তু এক ঘণ্টা পর যখন মিটিং এখনও চলছে, তখন বুঝলাম আবারও সেই পুরনো ফাঁদে পড়েছি।

“মিটিং শেষ হবে ১০ মিনিটে” – এই বাক্যটা অফিসের সবচেয়ে বড় মিথ্যা। কিন্তু আমরা প্রতিবারই এই মিথ্যায় বিশ্বাস করি। কেন? হয়তো আশাবাদী হতে ভালো লাগে।

পরদিন আরেকটা মিটিং। আবার বস বললেন, “দ্রুত একটা আপডেট। ৫ মিনিট লাগবে।” আমি ভাবলাম, “গতকাল ১০ মিনিটের মিটিং হয়েছিল এক ঘণ্টা। আজ ৫ মিনিটের হবে কতক্ষণ?”

৪৫ মিনিট পর মিটিং শেষ হল। অঙ্কে হিসেব করলে ৫ মিনিটের বদলে ৯ গুণ বেশি সময় লেগেছে।

আল্লাহর কাছে প্রশ্ন করি, “কেন আমরা সময়ের হিসেব এত ভুল করি? নাকি এটা ইচ্ছাকৃতভাবে বলা হয় আমাদের আনতে?”

এই ভুল সময়ের হিসেবের কারণে আমার পুরো দিনের প্ল্যানিং নষ্ট হয়ে যায়। ভেবেছিলাম ১০ মিনিটের মিটিং শেষে অন্য কাজ করব। কিন্তু এক ঘণ্টা পর বের হয়ে দেখি বাকি কাজের সময় নেই।

জামিউর বলে, “আমাদের অফিসে Time Management বলে কিছু নেই।” সত্যি কথা। আমরা সবাই সময়ের খারাপ বিচারক।

কখনো কখনো সন্দেহ হয় এই “১০ মিনিট” বলাটা একটা কৌশল। লম্বা মিটিং বললে হয়তো কেউ আসতে চাইবে না। তাই ছোট বলে সবাইকে নিয়ে আসা।

হ্যাপি বলে, “তুমি প্রতিদিনই বল শর্ট মিটিং, তারপর দেরি করে আস।” আমি বলি, “আমি কি করব? মিটিং তো শেষ হয় না।”

এই মিথ্যা প্রতিশ্রুতির কারণে আমাদের মধ্যে একধরনের অবিশ্বাস তৈরি হয়। কেউ যখন বলে “শর্ট মিটিং”, আমরা মনে মনে দেড়গুণ সময় হিসেব করি।

আরাশ বলেছে, “আব্বু, আপনাদের অফিসে কি ঘড়ি নেই?” বাচ্চার সরল প্রশ্ন। কিন্তু এর উত্তর দেওয়া কঠিন।

এখন চেষ্টা করি “শর্ট মিটিং” শুনলে বেশি সময়ের প্রস্তুতি নিতে। এবং নিজে যখন মিটিং ডাকি, তখন বাস্তবসম্মত সময় বলার চেষ্টা করি।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *