আমার অফিসের বসের বাড়িতে পার্টি। আমাকে নিমন্ত্রণ করেছেন।
আমি আমার সবচেয়ে ভালো শার্ট পরি। জুতা পালিশ করি।
গিয়ে দেখি বিশাল বাংলো। গেটে দুইজন গার্ড।
ভিতরে ঢুকে অভিভূত হয়ে যাই।
চ্যান্ডেলিয়ার ঝুলছে। মার্বেল ফ্লোর। এসি চলছে।
অন্য গেস্টরা দামি পোশাক পরেছেন। মহিলারা সোনার গয়না।
আমি মনে মনে হিসাব করি। এই একটা ঘরের সাজসজ্জার দাম আমার বাড়ির চেয়ে বেশি।
কেউ জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কোথায় থাকেন?”
“গুলশানের দিকে।” আমি বলি।
আসলে গুলশানের কাছে। দশ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু সেটা বলি না।
“বাড়ি কেমন?”
“ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট। দুই বেডরুম।”
আসলে এক বেডরুম। কিন্তু লজ্জায় দুই বলি।
“গাড়ি কী?”
আমার গাড়ি নেই। কিন্তু বলি, “এখন রিপেয়ারে।”
প্রতিটি প্রশ্নে আমি মিথ্যা বলি।
খাওয়ার সময় দেখি পাঁচ রকমের খাবার। আমি সব খাই। এত ভালো খাবার আর কবে পাব?
কেউ বলেন, “আপনার ছেলে কোন স্কুলে?”
“ইংরেজি মিডিয়ামে।”
আরাশ বাংলা মিডিয়ামে পড়ে। কিন্তু সত্য বলতে পারি না।
সারা সন্ধ্যা আমি অভিনয় করি।
ভান করি যে আমি তাদেরই মতো। ধনী। সুখী। সফল।
বাড়ি ফেরার সময় ট্যাক্সি ভাড়া ১৫০ টাকা লাগে।
আমার সারা মাসের বাসের খরচের সমান।
কিন্তু রিকশায় গেলে সম্মানহানি।
আমি ট্যাক্সি নিই।
বাড়িতে ফিরে আয়নায় দেখি। আমি আমার মতো দেখাচ্ছি।
সেই হতদরিদ্র হায়দার।
পার্টিতে যে মানুষটি ছিল, সে ছিল আমার কল্পনার চরিত্র।
একটু ভাবনা রেখে যান