ব্লগ

মধ্যরাতের আদালত

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

বিচারক: তুমি অপরাধী।

আমি: কী অপরাধ?

বিচারক: তুমি ভুল মানুষকে বিয়ে করেছো।

আমি: আমার কোনো বিকল্প ছিল না।

বিচারক: ছিল। তুমি লড়তে পারতে।


আমি: লড়ে কী হতো?

বিচারক: তোমার প্রথম প্রেম পেতে।

আমি: আর হ্যাপি?

বিচারক: তার জন্য অন্য কেউ থাকতো।

আমি: আরাশ?

বিচারক: জন্মই হতো না।

আমি: তাহলে আমি ভুল করিনি।


বিচারক: কিন্তু তুমি সুখী নও।

আমি: সুখ কী?

বিচারক: যখন তোমার প্রিয় মানুষটি তোমার পাশে থাকে।

আমি: হ্যাপি তো আমার পাশেই আছে।

বিচারক: সে তোমার প্রিয় নয়। দায়িত্ব।

আমি: দায়িত্বও একটা ভালোবাসা।


বিচারক: মিথ্যা বলছো।

আমি: কেন?

বিচারক: রাতে অন্যের স্বপ্ন দেখো।

আমি: সেটা… সেটা অভ্যাস।

বিচারক: অভ্যাস নাকি আসক্তি?

আমি: জানি না।


বিচারক: যদি সে ফিরে আসে?

আমি: কে?

বিচারক: তোমার প্রথম প্রেম।

আমি: সে ফিরবে না।

বিচারক: যদি ফেরে?

আমি: আমি… আমি যাব না।

বিচারক: নিশ্চিত?

আমি:


বিচারক: চুপ কেন?

আমি: হ্যাপি-আরাশের কথা ভাবছি।

বিচারক: নাকি তার কথা ভাবছো?

আমি: দুজনের কথাই।

বিচারক: একসাথে দুজনকে ভালোবাসা যায়?

আমি: জানি না। হয়তো।


বিচারক: তুমি একটা মিথ্যা জীবন যাপন করছো।

আমি: কেন?

বিচারক: হ্যাপিকে পুরো ভালোবাসা দিচ্ছো না।

আমি: দিচ্ছি যতটুকু পারি।

বিচারক: যতটুকু পারো নাকি যতটুকু বাকি আছে?

আমি: এক কথা নয় কি?


বিচারক: আরাশকে কী শেখাবে?

আমি: ভালো মানুষ হতে।

বিচারক: আর প্রেম সম্পর্কে?

আমি: সে নিজেই শিখবে।

বিচারক: তুমি কী শেখাবে – প্রেম করো নাকি বিয়ে করো?

আমি: দুটোই দরকার।

বিচারক: একসাথে পাওয়া গেলে?

আমি: সেটা সৌভাগ্যের ব্যাপার।


বিচারক: তোমার সৌভাগ্য হয়নি?

আমি: হয়নি।

বিচারক: দুর্ভাগ্য?

আমি: সেটাও না।

বিচারক: তাহলে?

আমি: জীবন। সাধারণ জীবন।


বিচারক: সাধারণ জীবনে কি আফসোস থাকে?

আমি: থাকে।

বিচারক: কী আফসোস?

আমি: যা পেলাম না তার জন্য।

বিচারক: যা পেয়েছো তার জন্য কৃতজ্ঞতা?

আমি: সেটাও আছে।


বিচারক: তাহলে তুমি অপরাধী নও।

আমি: তাহলে আমি কী?

বিচারক: একটি সাধারণ মানুষ।

আমি: সেটা ভালো না খারাপ?

বিচারক: সেটা সত্য।

আমি: সত্যই কি যথেষ্ট?

বিচারক: তোমার কাছে কী যথেষ্ট?


আমি: জানি না।

বিচারক: আদালত স্থগিত।

আমি: রায় কী?

বিচারক: তুমিই বলো।

আমি: আমি দোষী। আমি নির্দোষ। দুটোই।

বিচারক: সেটাই মানুষ হওয়ার অর্থ।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *