বিচারক: তুমি অপরাধী।
আমি: কী অপরাধ?
বিচারক: তুমি ভুল মানুষকে বিয়ে করেছো।
আমি: আমার কোনো বিকল্প ছিল না।
বিচারক: ছিল। তুমি লড়তে পারতে।
আমি: লড়ে কী হতো?
বিচারক: তোমার প্রথম প্রেম পেতে।
আমি: আর হ্যাপি?
বিচারক: তার জন্য অন্য কেউ থাকতো।
আমি: আরাশ?
বিচারক: জন্মই হতো না।
আমি: তাহলে আমি ভুল করিনি।
বিচারক: কিন্তু তুমি সুখী নও।
আমি: সুখ কী?
বিচারক: যখন তোমার প্রিয় মানুষটি তোমার পাশে থাকে।
আমি: হ্যাপি তো আমার পাশেই আছে।
বিচারক: সে তোমার প্রিয় নয়। দায়িত্ব।
আমি: দায়িত্বও একটা ভালোবাসা।
বিচারক: মিথ্যা বলছো।
আমি: কেন?
বিচারক: রাতে অন্যের স্বপ্ন দেখো।
আমি: সেটা… সেটা অভ্যাস।
বিচারক: অভ্যাস নাকি আসক্তি?
আমি: জানি না।
বিচারক: যদি সে ফিরে আসে?
আমি: কে?
বিচারক: তোমার প্রথম প্রেম।
আমি: সে ফিরবে না।
বিচারক: যদি ফেরে?
আমি: আমি… আমি যাব না।
বিচারক: নিশ্চিত?
আমি: …
বিচারক: চুপ কেন?
আমি: হ্যাপি-আরাশের কথা ভাবছি।
বিচারক: নাকি তার কথা ভাবছো?
আমি: দুজনের কথাই।
বিচারক: একসাথে দুজনকে ভালোবাসা যায়?
আমি: জানি না। হয়তো।
বিচারক: তুমি একটা মিথ্যা জীবন যাপন করছো।
আমি: কেন?
বিচারক: হ্যাপিকে পুরো ভালোবাসা দিচ্ছো না।
আমি: দিচ্ছি যতটুকু পারি।
বিচারক: যতটুকু পারো নাকি যতটুকু বাকি আছে?
আমি: এক কথা নয় কি?
বিচারক: আরাশকে কী শেখাবে?
আমি: ভালো মানুষ হতে।
বিচারক: আর প্রেম সম্পর্কে?
আমি: সে নিজেই শিখবে।
বিচারক: তুমি কী শেখাবে – প্রেম করো নাকি বিয়ে করো?
আমি: দুটোই দরকার।
বিচারক: একসাথে পাওয়া গেলে?
আমি: সেটা সৌভাগ্যের ব্যাপার।
বিচারক: তোমার সৌভাগ্য হয়নি?
আমি: হয়নি।
বিচারক: দুর্ভাগ্য?
আমি: সেটাও না।
বিচারক: তাহলে?
আমি: জীবন। সাধারণ জীবন।
বিচারক: সাধারণ জীবনে কি আফসোস থাকে?
আমি: থাকে।
বিচারক: কী আফসোস?
আমি: যা পেলাম না তার জন্য।
বিচারক: যা পেয়েছো তার জন্য কৃতজ্ঞতা?
আমি: সেটাও আছে।
বিচারক: তাহলে তুমি অপরাধী নও।
আমি: তাহলে আমি কী?
বিচারক: একটি সাধারণ মানুষ।
আমি: সেটা ভালো না খারাপ?
বিচারক: সেটা সত্য।
আমি: সত্যই কি যথেষ্ট?
বিচারক: তোমার কাছে কী যথেষ্ট?
আমি: জানি না।
বিচারক: আদালত স্থগিত।
আমি: রায় কী?
বিচারক: তুমিই বলো।
আমি: আমি দোষী। আমি নির্দোষ। দুটোই।
বিচারক: সেটাই মানুষ হওয়ার অর্থ।
একটু ভাবনা রেখে যান