ব্লগ

মনের খেলা

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

দান করব। পাঁচশ টাকা দিয়ে দেব।

কিন্তু কাউকে দেখাব না তো? লোকে যেন না ভাবে আমি দেখানোর জন্য দিচ্ছি।

আরে না, একটু দেখুক। দেখলে ক্ষতি কী? হয়তো তারাও দান করবে।

কিন্তু আমি কেন চাচ্ছি যে লোকে দেখুক? এটা কি ইখলাসের সাথে সাংঘর্ষিক?

থাক, চুপচাপ দিয়ে দেব। কাউকে বলব না।

কিন্তু হ্যাপিকে বলব? নাকি তাকেও বলব না? সে জানলে তো আমার সম্পর্কে ভালো ভাববে।

আহ, এই যে আমি ভাবছি সে আমার সম্পর্কে ভালো ভাববে – এটাই তো সমস্যা! এর মানে আমি দান করছি আল্লাহর জন্য, নাকি মানুষের প্রশংসার জন্য?

নাহ, ঠিক আছে। আল্লাহর জন্যই করছি। কিন্তু মানুষ জানলে খারাপ হবে কেন?

খারাপ হবে না। কিন্তু আমি কেন এত ভাবছি কে জানবে আর কে জানবে না? এত পরিকল্পনা কেন?

ইস, কত কিছু ভাবতে হয়! সহজ একটা দান করতে গিয়ে এত মাথা ঘামানো!

হয়তো এই ভাবাটাই স্বাভাবিক। কারণ আমি তো মানুষ। মানুষ চায় যে তার ভালো কাজটা দেখা হোক।

তাহলে কি ইখলাস বলে কিছু নেই? নাকি ইখলাস মানে এই দ্বন্দ্বটাই?

চল, ভাবনা বাদ দিয়ে দিয়েই দেব। পরে দেখা যাবে নিয়ত ঠিক ছিল কি না।

কিন্তু এখনই তো নিয়ত ঠিক করতে হবে! পরে আর পারব না।

ঠিক আছে, নিয়ত করলাম – শুধু আল্লাহর জন্য দিচ্ছি। মানুষ জানুক বা না জানুক।

কিন্তু এখন আমি যে নিয়ত করলাম, সেটা কি আসলেই নিয়ত? নাকি নিজেকে বোঝানো?

আরে এভাবে চিন্তা করলে তো কোনো কাজই করা যাবে না! চল, দিয়ে দেই।

হয়তো ইখলাস মানে নিখুঁত হওয়া না। ইখলাস মানে চেষ্টা করা। আর আমি চেষ্টা করছি।

এই চেষ্টাটাই হয়তো যথেষ্ট। আল্লাহ দেখেন চেষ্টা, দেখেন না পারফেকশন।

ঠিক আছে, যাই। দান করি।

দান করে এলাম। কিন্তু মনে একটা অস্বস্তি রয়ে গেল। এই যে এত ভাবনা, এত দ্বিধা – এটা কি ঠিক?

হয়তো এটাই মানুষের স্বভাব। নিয়ত নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকবেই। আর সেই দ্বন্দ্বের মধ্যেও ভালো কাজ করে যাওয়াটাই হয়তো ইখলাস।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *