আজ স্যারের কেবিনে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, “স্যার, আমার বেতন নিয়ে কথা আছে।”
স্যার মুখ তুলে তাকিয়েছেন। চোখে একটা বিরক্তি। যেন আমি কোনো ভিক্ষুক। হাত পেতেছি।
আমি বলেছিলাম, “তিন বছর ধরে একই বেতন। একটু বাড়ানো যায় না?”
স্যার বলেছেন, “দেখি কী করা যায়।”
‘দেখি কী করা যায়’ মানে কিছু হবে না।
বের হয়ে এসেছি। পা কাঁপছিল। মুখ গরম হয়ে আছে। মনে হচ্ছে আমি কোনো অপরাধ করেছি।
কেন এমন লাগছে? আমি তো আমার প্রাপ্য চেয়েছি। আমি ভালো কাজ করি। সময়মতো অফিসে আসি। কখনো ছুটি নিই না। তাহলে?
হয়তো আমাদের এই সমাজে নিজের অধিকার চাওয়াটাই অপরাধ।
বাড়ি ফিরে হ্যাপিকে বলেছিলাম। হ্যাপি বলেছে, “কী বলেছে?”
আমি বলেছি, “দেখবে।”
হ্যাপি আর কিছু জিজ্ঞেস করেনি। জানে যে আর কিছু হবে না।
আরাশের স্কুল ফি বাড়ানোর নোটিস এসেছে। ৫০০ টাকা বেশি। কোথা থেকে আনব সেই টাকা?
মাঝে মাঝে ভাবি, আমি যদি স্যারের কাছে মিনতি করতাম? হাত জোড় করে বলতাম, “স্যার, আমার খুব দরকার।” তাহলে হয়তো কিছু হতো।
কিন্তু সেটা করতে পারি না। আমার আত্মসম্মান বাধা দেয়।
আত্মসম্মান একটা ভালো জিনিস। কিন্তু এটা পেট ভরায় না। বিল দেয় না। আরাশের স্কুল ফি দেয় না।
আত্মসম্মান আর বেতন বাড়ানো – দুটো একসাথে চলে না।
অফিসে সবাই জানে আমি বেতন বাড়ানোর জন্য গিয়েছিলাম। কেউ কিছু বলে না। কিন্তু চোখে দেখি করুণা। আর হাসি।
আমি ব্যর্থ। আমি পারিনি।
আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আমি যেন আমার পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে পারি। আত্মসম্মান না হারিয়ে।
কিন্তু জানি, এই দুটো প্রায়ই একসাথে চলে না।
কাল আবার স্যারের মুখ দেখতে হবে। আবার ‘সালাম’ দিতে হবে। আবার হাসতে হবে।
এটাও একটা শিল্প।
একটু ভাবনা রেখে যান