বুকের বাম পাশে একটা চিনচিনে ব্যথা। মাত্র কয়েক সেকেন্ড। কিন্তু আমার পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
হার্ট অ্যাটাক?
আমি গুগলে সার্চ করি। “chest pain left side heart attack symptoms”।
পড়ে দেখি সব লক্ষণ আমার সাথে মিলে যাচ্ছে। বুকে ব্যথা। হাত দিয়ে ঘাম। শ্বাসকষ্ট।
আমার বয়স ঊনচল্লিশ। হার্ট অ্যাটাকের বয়স।
আমার নাড়ি দেখি। ৯৫। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।
আমি হ্যাপিকে বলি, “আমার বুকে ব্যথা।”
“কোথায়?”
আমি দেখাই। হ্যাপি চিন্তিত হয়ে যায়।
“ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।”
আমরা হাসপাতালে যাই। ডাক্তার ECG করান। ব্লাড টেস্ট করান।
আমি অপেক্ষা করি। আমার মনে হচ্ছে আমি মারা যাব।
আরাশের কথা ভাবি। আমি মরে গেলে সে কী করবে? হ্যাপি কী করবে?
আমার বীমা পলিসির কথা মনে পড়ে। দশ লাখ টাকা। যথেষ্ট হবে?
ডাক্তার রিপোর্ট নিয়ে আসেন।
“কিছু নেই। ECG নরমাল। ব্লাড টেস্ট নরমাল।”
আমার একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়।
“তাহলে ব্যথাটা?”
“গ্যাস্ট্রিক। অথবা মাংসপেশির ব্যথা।”
আমি অবাক হই। এত ভয় পেয়েছিলাম গ্যাস্ট্রিকের জন্য?
“ডাক্তার সাহেব, আমার মনে হচ্ছিল হার্ট অ্যাটাক।”
ডাক্তার হাসেন। “আপনার বয়সী অনেকেই এমন ভাবেন। একটু সচেতন থাকবেন। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করবেন।”
বাড়িতে ফিরে আমি ভাবি, আমি কত দ্রুত মৃত্যুর কথা চিন্তা করেছি।
এটা কি মধ্যবয়সের সমস্যা? ছোটখাটো যেকোনো অসুবিধাকে মৃত্যুর লক্ষণ মনে করা?
আমার বাবা কি এমন করতেন? তিনি কি তাঁর প্রতিটি শারীরিক সমস্যা নিয়ে আতঙ্কিত হতেন?
রাতে শুয়ে আমি আমার বুকের দিকে কান পেতে শুনি। হৃদস্পন্দন। ধুকপুক ধুকপুক।
কত নিখুঁতভাবে চলছে। কোনো বিশ্রাম নেই। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত।
আমি ভাবি, এই হৃদয় কবে থামবে? দশ বছর পর? বিশ বছর পর?
আমি জানি এই চিন্তা অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু করি।
আজকের পর থেকে আমি প্রতিদিন নিজের শরীর নিয়ে চিন্তা করব।
প্রতিটি ব্যথা, প্রতিটি অস্বস্তি হবে হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ।
এভাবেই কি মধ্যবয়স কাটে?
একটু ভাবনা রেখে যান