প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়া একটা ছোট মৃত্যু। চেতনা নিভে যায়। জগৎ অদৃশ্য হয়। আমি হারিয়ে যাই অন্ধকারে।
সকালে জাগরণ একটা পুনর্জন্ম।
ঘুমের আগে প্রার্থনা করি। যেমন মৃত্যুর আগে করা হয়। “হে আল্লাহ, রাতে যদি আত্মা নিয়ে নেন, তাহলে রহমত করবেন।”
ঘুমের অনিশ্চয়তা মৃত্যুর মতোই।
গভীর ঘুমে নিমজ্জিত হওয়া মানে এই পৃথিবী থেকে বিদায়। কোনো সংবেদন নেই। কোনো চিন্তা নেই। এমনকি স্বপ্নও নেই।
এটা কি মৃত্যুর পূর্বাভাস?
ঘুমের মধ্যে শ্বাস ধীর হয়। হৃদস্পন্দন কমে যায়। শরীরের তাপমাত্রা নামে। প্রাণের সব লক্ষণ হালকা হয়ে যায়।
যেন শরীর মৃত্যুর মহড়া দিচ্ছে।
সকালে জেগে উঠি নতুন মানুষ হয়ে। রাতের স্মৃতি ঝাপসা। যেন অন্য জীবন থেকে ফিরেছি। অন্য অস্তিত্ব থেকে।
জাগরণ কি পুনরুত্থান?
শিশুরা দিনে অনেকবার ঘুমায়। অনেকবার মরে। অনেকবার জন্মায়। বুড়োরা কম ঘুমায়। কম মৃত্যু। কম জন্ম।
বয়সের সাথে জীবন-মৃত্যুর চক্র কমে যায়।
কোমার রোগী দীর্ঘ মৃত্যুতে। জাগলে দীর্ঘ জন্ম। অনিদ্রার রোগী মৃত্যু থেকে বঞ্চিত। তাই পুনর্জন্মও বঞ্চিত।
ঘুম ছাড়া নবায়ন নেই।
ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করে। কোষ পুনর্নির্মাণ হয়। বিষাক্ত পদার্থ বের হয়। নতুনের জন্য জায়গা তৈরি হয়।
মৃত্যু নতুন জীবনের শর্ত।
স্বপ্ন হয়তো মৃত্যু ও জন্মের মধ্যবর্তী অবস্থা। বারডো। যেখানে চেতনা ভাসে অনিশ্চিত।
স্বপ্নের জগৎ মৃত্যুর জগতের মতো।
প্রতি রাতে মৃত্যু মানে প্রতিদিনের জন্ম। গতকালের আমি মরে যায়। আজকের আমি জন্ম নেয়।
ঘুমের মাধ্যমে আমি নিয়মিত আপডেট হই।
মৃত্যুভয় থাকলে ঘুমাতেও ভয় লাগে। জীবনকে আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা। কিন্তু ছাড়তে না পারলে নতুনত্ব পাওয়া যায় না।
ঘুম আত্মসমর্পণের শিক্ষা।
কিছু মানুষ ঘুমের মধ্যেই মারা যায়। তাদের জন্য ঘুম আর জাগরণের মধ্যে পার্থক্য ম্লান হয়ে যায়।
চূড়ান্ত ঘুম থেকে জাগরণ নেই।
বৃদ্ধ বয়সে ঘুম আর মৃত্যুর মধ্যে সীমারেখা অস্পষ্ট হয়। দীর্ঘ ঘুমের পর জাগতে কষ্ট হয়।
যেন শরীর মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
রাতের অন্ধকার মৃত্যুর প্রতীক। সূর্যোদয় জীবনের। আমরা প্রতিদিন এই চক্রের সাক্ষী।
প্রকৃতি আমাদের মৃত্যু-জন্মের পাঠ দেয়।
শেষ রাতে যখন গভীর ঘুম থেকে ধীরে ধীরে জাগতে থাকি, মনে হয় দূর কোনো গ্রহ থেকে পৃথিবীতে ফিরছি।
জাগরণ দূর যাত্রার ফিরতি পথ।
হয়তো মৃত্যুও এমনই। একটা দীর্ঘ ঘুম। যেখানে থেকে ভিন্ন রূপে জাগরণ।
ঘুম মৃত্যুর মহড়া। মৃত্যু চূড়ান্ত ঘুম।
একটু ভাবনা রেখে যান